ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড় অবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক—A. অক্ষাংশB. উচ্চতাC. সমুদ্র হতে দূরত্ব

  1. ক)

    আবহাওয়া কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' চিহ্নিত নিয়ামক বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' পরিবর্তনে জলবায়ুর ভিন্নতার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর স্বল্পকালীন (সাধারণত ১ থেকে ৭ দিনের) বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের সামগ্রিক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের (১-৭ দিন) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা। পক্ষান্তরে, জলবায়ু হলো কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের (সাধারণত ৩০-৪০ বছরের) গড় অবস্থা।
    ২. আবহাওয়া স্বল্প সময়ে ও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু কোনো স্থানের জলবায়ু সহজে বা দ্রুত পরিবর্তিত হয় না, এটি দীর্ঘদিন স্থির থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' চিহ্নিত নিয়ামকটি হলো 'সমুদ্র হতে দূরত্ব'।

    সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল এবং সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের মধ্যে তাপমাত্রাগত ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। পানি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয় এবং ধীরে ধীরে শীতল হয়, কিন্তু স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত ও দ্রুত শীতল হয়। এর ফলে সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম বা শীতকালে তীব্র শীত অনুভূত হয় না; সেখানে মৃদুভাবাপন্ন বা সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম সমুদ্রের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এখানে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া দেখা যায় না।

    পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থলভাগের অভ্যন্তরে অবস্থিত অঞ্চলগুলোতে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম এবং শীতকালে তীব্র শীত অনুভূত হয়। একে চরমভাবাপন্ন বা মহাদেশীয় জলবায়ু বলে। যেমন—বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহ সমুদ্র থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর প্রভাব বেশি দেখা যায়। অতএব, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সমুদ্রের দূরত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিহ্নিত নিয়ামকটি হলো 'অক্ষাংশ'। অক্ষাংশের পরিবর্তনের কারণে জলবায়ুর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সূর্যরশ্মির পতন কোণ: পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় সর্বত্র সূর্যরশ্মি সমান কোণে পতিত হয় না। নিরক্ষরেখায় সূর্য সারাবছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়, কিন্তু নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে মেরুর দিকে অক্ষাংশ বৃদ্ধির সাথে সাথে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পতিত হতে থাকে।
    ২. তাপমাত্রার বণ্টন: লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মি স্বল্প পরিসরে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং বায়ুমণ্ডলের কম স্তর ভেদ করে আসে, ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর তাপমাত্রা বেশি থাকে। পক্ষান্তরে, উচ্চ অক্ষাংশে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পৌঁছানোর ফলে তা বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এবং বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাপের তীব্রতা অনেক হ্রাস পায়।
    ৩. তাপমণ্ডলের সৃষ্টি: অক্ষাংশের পার্থক্যের ভিত্তিতে পৃথিবীকে বিভিন্ন তাপমণ্ডলে ভাগ করা হয়েছে। যেমন—০° থেকে ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত উষ্ণমণ্ডল, ২৩.৫° থেকে ৬৬.৫° পর্যন্ত নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল এবং ৬৬.৫° থেকে মেরু পর্যন্ত হিমমণ্ডল অবস্থিত।

    সুতরাং দেখা যায় যে, অক্ষাংশের পরিবর্তনের ফলেই সৌর বিকিরণের তারতম্য ঘটে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুর মৌলিক ভিন্নতা সৃষ্টি হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন