বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের টেকনাফ অঞ্চলের এক গ্রামের গরিব অসহায় পরিবারকেসমাজচ্যুত করা হয়েছে। কারণ, ঐ বাড়ির ছেলের বিয়েতে গ্রামের মাতব্বরপরিবারকে দাওয়াত করা হয়নি। এ কারণেই খেপে যায় মাতব্বর ও তারলোকজন। সভা করে একঘরে করে দেয় সেই গরিব পরিবারটিকে। পরিবারেরলোকদের বাইরে যাওয়ার রাস্তাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- ক)(1)
‘লালসালু’ উপন্যাসে সাত ছেলের বাপের নাম কী ?
- খ)(2)
মজিদ আক্কাসকে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের টেকনাফ অঞ্চলের ঘটনাটির সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসেরকোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? কেন?
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসেরমজিদ অভিন্ন চেতনার অনুসারী।”-মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘লালসালু’ উপন্যাসে সাত ছেলের বাপের নাম দুদু মিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রামবাসীরা শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে মজিদের ধর্মীয় ভণ্ডামি ও অন্ধ বিশ্বাসের ফাঁদ ধরে ফেলবে—এই আশঙ্কায় নিজের স্বার্থ ও প্রতিপত্তি বজায় রাখতে মজিদ স্কুল প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়।
মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে একটি কল্পিত মাজারকে পুঁজি করে ধর্মব্যবসা ও নিরঙ্কুশ আধিপত্য কায়েম করেছিল। আক্কাস আধুনিক শিক্ষার আলো গ্রামে প্রবেশ করাতে চাইলে মজিদ বুঝতে পারে যে, শিক্ষার প্রসারে তার ক্ষমতার ভিত্তি ধসে পড়বে। তাই চতুর মজিদ আক্কাসের মুখে দাড়ি না থাকার অজুহাত তুলে ধর্মের নামে তাকে গ্রামে কোণঠাসা করে দেয় এবং স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নস্যাৎ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের টেকনাফ অঞ্চলের ঘটনাটির সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের আওয়ালপুর পীরের ভক্ত হওয়ার কারণে খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনাকে তালাক দেওয়ার ঘটনার এবং গ্রামবাসীর ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে সমাজচ্যুতির হুমকির সাদৃশ্য রয়েছে।
উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারী ও ধর্মব্যবসায়ী মজিদ যৌথভাবে গ্রামীণ সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের কর্তৃত্বের বাইরে কেউ গেলে বা নির্দেশ অমান্য করলে তাকে কঠোর সামাজিক ও ধর্মীয় শাস্তির মুখে পড়তে হতো। যেমন, সন্তান লাভের আশায় খালেক ব্যাপারীর স্ত্রী আমেনা মজিদের নির্দেশ উপেক্ষা করে পাশের আওয়ালপুরের পীরের পানির পড়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করায় মজিদ তাকে 'বদজাত' আখ্যা দিয়ে খালেক ব্যাপারীকে দিয়ে আমেনাকে একঘরে ও শেষ পর্যন্ত ঘরছাড়া (তালাক) করায়।
উদ্দীপকের টেকনাফের ঘটনাটিতেও দেখা যায়, গরিব পরিবারটি মাতব্বরকে দাওয়াত না দিয়ে তার আধিপত্যকে অগ্রাহ্য করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাতব্বর ও তার লোকজন সভা ডেকে পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করে এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। উপন্যাসেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্বল ও অসহায় মানুষের ওপর যে সামাজিক নিগ্রহ চালানো হয়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তা হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ অভিন্ন চেতনার অনুসারী”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা এবং আধিপত্য বজায় রাখার লালসা থেকে সমাজে একশ্রেণির প্রভাবশালী মানুষ সর্বদাই দুর্বলদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিজেদের শাসন টিকিয়ে রাখতে চায়। উদ্দীপকের মাতব্বর পরিবার আত্মঅহমিকা ও ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ। তাদের দাওয়াত না দেওয়ার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা গরিব পরিবারটির ওপর সমাজচ্যুতির অমানবিক শাস্তি চাপিয়ে দেয় এবং তাদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার—চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এটি চরম স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মহব্বতনগর গ্রামে একই ধরনের অপ্রতিহত ক্ষমতার চর্চা করে। গ্রামের যে-কেউ তার ক্ষমতার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ালে কিংবা তার আদেশ সামান্য অমান্য করলে মজিদ ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে তাদের কোণঠাসা ও সমাজচ্যুত করত। হাসুনির বাপ, আক্কাস আলী কিংবা আমেনা বিবির প্রতি মজিদের আচরণে একই হিংস্র কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা দৃশ্যমান হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের মাতব্বর যেমন ক্ষমতার দম্ভে অসহায় মানুষকে একঘরে করে, তেমনি মজিদও ধর্মের লেবাসে মানুষকে শাসন ও দমন করে নিজের কর্তৃত্ব অটুট রাখে। উভয়ের মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা। তাই তারা উভয়েই আধিপত্যবাদী ও নিপীড়ক চেতনার দিক থেকে অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও