ভূগোল এবং পরিবেশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: অনেকদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ায় কৃষক অবর্ণনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২: ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
দৃশ্যকল্প-৩: যমুনা তীরের বাসিন্দা গনি মিয়া একজন গরীব কৃষক। সম্প্রতি এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে তাঁর বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

  1. ক)

    প্রশমন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনাটি কোন দুর্যোগকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও ৩ এর মধ্যে কোন দুর্যোগটি অধিকতর ক্ষতিকর? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।

  2. খ)

    বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখানে প্রায় প্রতি বছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ ঘটে।
    সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকলে আগাম সতর্কতা, প্রস্তুতি ও উদ্ধার কাজের মাধ্যমে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি অনেক কমানো যায়।
    দুর্যোগের পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন দ্রুত করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ দুর্যোগে বহু মানুষের প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসকে নির্দেশ করে।
    সমুদ্রের উষ্ণ পানি থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠলে নিম্নচাপ তৈরি হয়। চারপাশের বায়ু সেই ফাঁকা স্থান পূরণে প্রবল বেগে ছুটে আসে। পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে বায়ু ঘুরতে ঘুরতে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।
    ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে প্রবল বাতাসের সঙ্গে সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়েছে, যা খরা। দৃশ্যকল্প-৩ এ যমুনা তীরে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা নদীভাঙন। দুটির মধ্যে নদীভাঙন অধিক ক্ষতিকর।
    ১. ক্ষতির স্থায়িত্ব: খরা কেটে গেলে বৃষ্টি হলে জমি আবার চাষের উপযোগী হয়। নদীভাঙনে জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই ক্ষয় অপূরণীয় এবং সেই জমি আর ফিরে পাওয়া যায় না।
    ২. আর্থ-সামাজিক ক্ষতি: খরায় প্রধানত এক মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়। নদীভাঙনে মানুষ বাড়িঘর, জমি ও জীবিকা সবকিছু হারায়। গনি মিয়ার মতো গরিব কৃষক নিঃস্ব ও ভূমিহীন হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে গিয়ে বস্তিতে আশ্রয় নেয়।
    ৩. পুনরুদ্ধার: খরা মোকাবিলায় সেচ ও খরা-সহনশীল ফসল সাহায্য করে। কিন্তু ভাঙনে হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব।
    খরায় কৃষকের বড় ক্ষতি হলেও তা সাময়িক ও পুনরুদ্ধারযোগ্য।
    সুতরাং, ক্ষতির স্থায়িত্ব ও গভীরতা বিবেচনায় নদীভাঙন খরার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন