জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

করিম পুকুরে জাল ফেললে তার জালে মাছ ছাড়াও শামুক ও ব্যাঙ ধরা পড়লো।

  1. ক)

    প্রজাতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীগুলোর মধ্যে অপ্রতিসম প্রাণীটির পর্বভিত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীগুলোর মধ্যে কোন কোনটি একই পর্বের হলেও শ্রেণিগতভাবে ভিন্ন? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতিতে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ যেসব জীব পরস্পরের মধ্যে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম কিন্তু অন্য সদস্যদের থেকে জননগতভাবে বিচ্ছিন্ন, তাদের প্রজাতি (Species) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইসিজেডএন (ICZN) বা আইসিএন (ICN) কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী দুটি পদ (প্রথমটি গণ এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতি) ব্যবহার করে কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণের পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) বলে। ক্যারোলাস লিনিয়াস ১৭৫৩ সালে এই পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। যেমন— মানুষের দ্বিপদ নাম Homo sapiens।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীগুলো হলো মাছ, শামুক এবং ব্যাঙ। এদের মধ্যে শামুক হলো অপ্রতিসম (Asymmetrical) প্রাণী। শামুক মলাস্কা (Mollusca) পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

    মলাস্কা (Mollusca) পর্বের প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
    ১. দেহ নরম, মাংসল, অখণ্ডায়িত এবং সিলোমেট।
    ২. দেহ সাধারণত পাতলা ম্যান্টল (Mantle) নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং ম্যান্টল থেকে ক্ষরিত পদার্থ দিয়ে চুনময় শক্ত খোলক গঠিত হয়।
    ৩. দেহের অঙ্কীয়দেশে একটি পেশল পদ (Muscular foot) থাকে, যা চলনে সাহায্য করে।
    ৪. পরিপাকতন্ত্রে কাইটিন নির্মিত রেতি-জিহ্বা বা র‍্যাडुলা (Radula) উপস্থিত থাকে (বাইভালভিয়া ব্যতীত)।
    ৫. রক্তে হিমোসায়ানিন ও অ্যামিবোসাইট কণা থাকে এবং এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র সাধারণত অর্ধমুক্ত ধরনের।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীগুলো হলো মাছ, শামুক ও ব্যাঙ। এদের মধ্যে 'মাছ' ও 'ব্যাঙ' উভয়ই কর্ডাটা (Chordata) পর্বের এবং ভার্টিব্রাটা (Vertebrata) উপপর্বের প্রাণী হলেও তারা শ্রেণিগতভাবে ভিন্ন। মাছ মূলত মৎস্য শ্রেণির (যেমন- অ্যাকটিনোপটেরিজি/কনড্রিকথিস) এবং ব্যাঙ হলো অ্যাম্ফিবিয়া (Amphibia) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

    শ্রেণিগত ভিন্নতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. বাসস্থান ও স্বভাব: মাছ সম্পূর্ণ জলজ প্রাণী এবং ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। অন্যদিকে, ব্যাঙ উভচর প্রাণী; এদের জীবনের প্রাথমিক অবস্থা (ট্যাডপোল) পানিতে এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থা সাধারণত স্থলে অতিবাহিত হয়।
    ২. ত্বকীয় গঠন: মাছের ত্বক সাধারণত মিউকাস গ্রন্থিযুক্ত এবং সাইক্লয়েড, টিনয়েড বা প্লাকয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে। পক্ষান্তরে, ব্যাঙের ত্বক মসৃণ, আর্দ্র, গ্রন্থিময় ও নগ্ন (আঁইশবিহীন)।
    ৩. চলন অঙ্গ: মাছের চলন অঙ্গ হলো জোর ও বিজোর পাখনা (Fins)। কিন্তু ব্যাঙের চলন অঙ্গ হিসেবে দুই জোড়া পঞ্চাঙ্গুলিযুক্ত পা বা পদ থাকে।
    ৪. শ্বাস-অঙ্গ: পূর্ণাঙ্গ মাছ ফুলকার সাহায্যে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে। অপরদিকে ব্যাঙ পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ফুসফুস, আর্দ্র ত্বক ও মুখবিবরীয় ঝিল্লির সাহায্যে এবং লার্ভা অবস্থায় ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
    ৫. হৃদপিণ্ড: মাছের হৃদপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত সংবহন করে (ভেনাস হার্ট)। পক্ষান্তরে, ব্যাঙের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়)।

    উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের পার্থক্যের কারণে মাছ ও ব্যাঙ একই পর্বের (Chordata) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও শ্রেণিগতভাবে ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন