ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

রিফাত একজন শিল্পপতি। রিফাত সম্পদের হিসাব না করে সামান্য অর্থ গরীবদের মাঝে প্রদান করে একটি আর্থিক ইবাদত পালন করেন। অন্যদিকে রিফাতের বাবা জনি সাহেব জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে মসজিদে বসে ইমাম সাহেবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা শুনছিলেন। তিনি বললেন, মানুষ লোভ লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মন্দ কাজে প্রভাবিত হয়। এমন একটি ইবাদত আছে যার মাধ্যমে এই মন্দ কাজগুলো থেকে দূরে থাকা যায়।

  1. ক)

    মুস্তাহাব কী?

    (1)
  2. খ)

    যাকাত ইসলামের সেতু বন্ধন—বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    রিফাত এর ইবাদতটি সঠিক হয়েছে কি না তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ইমাম সাহেবের বক্তব্যে যে ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে কাজ রাসুল (স) মাঝে মাঝে করেছেন, করলে সওয়াব আছে কিন্তু না করলে গুনাহ হয় না, তাকে মুস্তাহাব বলে।

  2. খ)

    সেতু যেমন নদীর দুই পারকে যুক্ত করে, যাকাত তেমনি ধনী ও গরিবের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন গড়ে তোলে। ধনীরা নিজেদের সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের দিলে গরিবদের অভাব দূর হয় এবং ধনীদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জন্মে। এতে ধনীদের মনে অহংকার ও কৃপণতা দূর হয় এবং গরিবদের মনে হিংসা-বিদ্বেষ থাকে না। এভাবে যাকাত সমাজের দুই শ্রেণিকে কাছে এনে সম্প্রীতি তৈরি করে, তাই যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধন বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে রিফাত সম্পদের হিসাব না করে সামান্য অর্থ গরিবদের দিয়েছেন, যা যাকাতের ইবাদত। তাঁর এই ইবাদতটি সঠিক হয়নি।

    যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ (সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য) হতে হয় এবং এক বছর অতিক্রান্ত হতে হয়। তখন মোট সম্পদের হিসাব করে তার ২.৫%২.৫\% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) আদায় করতে হয়। রিফাত শিল্পপতি হয়েও হিসাব না করে অনুমানে সামান্য অর্থ দিয়েছেন। ফলে প্রকৃত যাকাতের পরিমাণ আদায় হয়নি এবং তাঁর ওপর ফরজ যাকাতের দায়িত্ব বাকি থেকে গেছে। সুতরাং, রিফাতের ইবাদতটি সঠিক হয়নি।

  4. ঘ)

    ইমাম সাহেবের বক্তব্যে সালাত (নামাজ) ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা মানুষকে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত)

    সালাতের সামাজিক গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

    ১. নৈতিক চরিত্র গঠন: নিয়মিত সালাত আদায়কারী আল্লাহর ভয়ে অন্যায়, দুর্নীতি ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকে। ফলে সমাজে শান্তি বজায় থাকে।
    ২. সাম্য ও ঐক্য: জামাতে ধনী-গরিব, ছোট-বড় একই কাতারে দাঁড়ায়। এতে ভেদাভেদ দূর হয়ে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য গড়ে ওঠে।
    ৩. শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা: নির্দিষ্ট সময়ে ও ইমামের অনুসরণে সালাত আদায় করায় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা পাওয়া যায়।
    ৪. সামাজিক যোগাযোগ: জামাত ও জুমআয় একত্র হওয়ায় একে অপরের খোঁজখবর নেওয়া ও সুখ-দুঃখ ভাগ করার সুযোগ হয়।

    সুতরাং, সালাত ব্যক্তিকে সৎ ও সংযমী করে এবং সমাজকে শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন