জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি দ্বি-স্তরী প্রাণী যার দেহের অভ্যন্তরে সবুজ জীব বাস করে।

  1. ক)

    নেমাটোসিস্ট কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মেসোগ্লিয়া কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রাণীটির দ্রুত চলন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জীব দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের নিডোসাইট কোষের অভ্যন্তরে অবস্থিত অপারকুলামযুক্ত, প্রোটিন ও বিষাক্ত ফেনলসমৃদ্ধ হিপনোটক্সিন তরলে পূর্ণ এবং সূত্রকযুক্ত থলি সদৃশ অঙ্গাণুকে নেমাটোসিস্ট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দ্বিস্তরী দেহের বহিঃত্বক (এপিডার্মিস) ও অন্তঃত্বকের (গ্যাস্ট্রোডার্মিস) মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জেলির মতো অকোষীয়, স্থিতিস্থাপক ও স্বচ্ছ স্তরকে মেসোগ্লিয়া বলে। এটি উভয় স্তরের কোষসমূহকে সংযুক্ত রাখে এবং প্রাণীর দেহকে নির্দিষ্ট আকার ও নমনীয়তা প্রদান করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বি-স্তরী প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra viridissima)। হাইড্রার দ্রুত চলন প্রক্রিয়াটি হলো ডিগবাজি বা সমারসল্টিং (Somersaulting)। এটি নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

    ১. চলনের শুরুতে হাইড্রা তার দেহকে প্রসারিত ও বাঁকিয়ে গতিপথের দিকে নিয়ে যায় এবং কর্ষিকাগুলোর গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্টের সাহায্যে তলদেশ বা ভিত্তিকে স্পর্শ করে আটকে ধরে।
    ২. এরপর পাদচাকতি মুক্ত করে কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে পুরো দেহটিকে সোজা উল্টো অবস্থায় আনে।
    ৩. পুনরায় দেহ বাঁকিয়ে পাদচাকতিকে গতিপথের সামনের দিকে ভিত্তি স্পর্শ করায় এবং কর্ষিকাগুলোকে মুক্ত করে দেহ সোজা করে দাঁড়ায়।

    এভাবে পর্যায়ক্রমে কর্ষিকা ও পাদচাকতির ওপর ভর দিয়ে পরপর দুটি ডিগবাজি সম্পন্ন করে হাইড্রা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। সাধারণ দূরত্বের জন্য এটি হাইড্রার সর্বাধিক দ্রুত ও কার্যকর চলন প্রক্রিয়া।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বি-স্তরী প্রাণীটি হলো সবুজ হাইড্রা (Hydra viridissima) এবং এর গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পেশি-আবরণী কোষের অভ্যন্তরে বসবাসকারী সবুজ জীবটি হলো জুক্লোরেলা (Zoochlorella) নামক এককোষী শৈবাল। এদের মধ্যবর্তী সম্পর্কটি হলো মিথোজীবিতা (Mutualism), যেখানে উভয় জীবই পরস্পরের দ্বারা উপকৃত হয়।

    শৈবালের প্রাপ্ত সুবিধা:
    ১. আশ্রয়: শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের কোষে নিরাপদ আশ্রয় পায়।
    ২. সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল: হাইড্রার শ্বসনে নির্গত CO2 শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
    ৩. পুষ্টি উপাদান: হাইড্রার প্রোটিন বিপাকে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য শৈবাল প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহার করে।

    হাইড্রার প্রাপ্ত সুবিধা:
    ১. খাদ্য প্রাপ্তি: শৈবাল কর্তৃক সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত অতিরিক্ত শর্করা হাইড্রা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
    ২. অক্সিজেন প্রাপ্তি: শৈবালের সালোকসংশ্লেষণে নির্গত O2 হাইড্রা তার শ্বসনকার্যে ব্যবহার করে।
    ৩. বর্জ্য অপসারণ: শৈবাল হাইড্রার নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য গ্রহণ করে হাইড্রার দেহকে দূষণমুক্ত রাখে।

    সুতরাং, হাইড্রা ও শৈবাল একে অপরের সান্নিধ্যে বেঁচে থেকে পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে মিথোজীবী সম্পর্ক বজায় রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন