জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
হৃৎপিণ্ড →X \xrightarrow{\mathrm{X}} ফুলকা →Y \xrightarrow{\mathrm{Y}} সমগ্র দেহ
- ক)(1)
মেসেন্টরন কী?
- খ)(2)
Hydra তে স্বনিষেক হয় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাণীর রূপালি পাতসদৃশ অঙ্গের গঠন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
X ও Y দ্বারাই উদ্দীপকের প্রাণীটির মূল বাহিকাতে রক্ত সরবরাহ হয়- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘাসফড়িং বা পতঙ্গের পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী অংশ যা এন্ডোডার্ম থেকে উৎপন্ন এবং পেরিট্রিফিক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, তাকে মেসেন্টরন (বা মধ্য পৌষ্টিকনালি) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রা সাধারণত উভলিঙ্গ হলেও এদের দেহে স্বনিষেক ঘটে না। এর প্রধান কারণ হলো প্রোট্যান্ড্রি (Protandry)। একটি হাইড্রার দেহে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় একই সাথে পরিপক্ক হয় না; সাধারণত শুক্রাশয় আগে পরিপক্ক হয়ে শুক্রাণু উন্মুক্ত করে দেয় এবং ডিম্বাশয় পরে পরিপক্ক হয়। জননকোষের এই অসম পরিপক্কতার কারণে একই প্রাণীর শুক্রাণু দ্বারা নিজের ডিম্বাণুর নিষেক সম্ভব হয় না, ফলে এদের পরনিষেক ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রক্তসংবহন চিত্র (হৃৎপিণ্ড → ফুলকা → দেহ) দ্বারা রুই মাছকে (Labeo rohita) নির্দেশ করা হয়েছে। রুই মাছের রূপালি পাতসদৃশ অঙ্গটি হলো 'পটকা' বা 'বায়ুথলি' (Air bladder/Swim bladder)।
বায়ুথলির গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রকোষ্ঠ: এটি একটি পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট এবং চকচকে রূপালি রঙের থলি। থলিটি একটি খাঁজ দ্বারা সম্মুখ প্রকোষ্ঠ এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ নামক দুটি অংশে বিভক্ত। সম্মুখ প্রকোষ্ঠটি আকারে ছোট এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠটি তুলনামূলকভাবে লম্বা।
২. প্রাচীর: বায়ুথলির প্রাচীর মূলত দুটি স্তর নিয়ে গঠিত— বাইরের স্তরটি টিউনিকা এক্সটার্না (ঘন তন্তুময় ও কোলাজেনযুক্ত) এবং ভেতরের স্তরটি টিউনিকা ইন্টার্না (মসৃণ পেশি ও রক্তজালক সমৃদ্ধ)।
৩. রেড গ্রন্থি (Rete mirabile): বায়ুথলির ভেতরের প্রাচীরে ঘন কৈশিক জালকযুক্ত লাল রঙের বিশেষ রক্তজালক সমৃদ্ধ অংশ থাকে, যাকে রেটে মিরাবিলিয়া বা রেড গ্ল্যান্ড বলে। এটি রক্ত থেকে গ্যাস শোষণ বা বায়ুথলিতে গ্যাস নিঃসরণ করে।
৪. নিউমেটিক নালি: রুই মাছের বায়ুথলির সম্মুখ প্রকোষ্ঠ থেকে একটি সরু নালি গলবিলের সাথে যুক্ত থাকে, যাকে নিউমেটিক নালি (Pneumatic duct) বলে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সংবহন চিত্রে 'X' হলো অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্র্যাঙ্কিয়াল ধমনি এবং 'Y' হলো বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্র্যাঙ্কিয়াল ধমনি, যা রুই মাছের সংবহনতন্ত্রের মূল বাহিকাসমূহ তৈরি করে। নিচে রক্ত সরবরাহে এদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. X (অ্যাফারেন্ট ব্র্যাঙ্কিয়াল ধমনি) এর ভূমিকা:
রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা (অঙ্কীয় মহাধমনি) থেকে চার জোড়া অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্র্যাঙ্কিয়াল ধমনি উৎপন্ন হয়। এই বাহিকাগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে গ্রহণ করে সরাসরি চার জোড়া ফুলকায় নিয়ে যায় গ্যাসীয় বিনিময়ের জন্য।২. Y (ইফারেন্ট ব্র্যাঙ্কিয়াল ধমনি) এর ভূমিকা:
ফুলকায় রক্ত পরিশোধিত ও অক্সিজেনযুক্ত হওয়ার পর চার জোড়া বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্র্যাঙ্কিয়াল ধমনি ফুলকা থেকে সেই রক্ত সংগ্রহ করে। প্রতি পাশের প্রথম ও দ্বিতীয় ইফারেন্ট ধমনি মিলিত হয়ে একটি লুপ গঠন করে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ ইফারেন্ট ধমনি অপর একটি লুপ তৈরি করে। পরে দুই পাশের লুপগুলো মিলিত হয়ে মাথার নিচে একটি ডিম্বাকার বৃত্ত গঠন করে, যাকে সার্কুলাস সেফালিকাস (Circulus cephalicus) বলে। এই বৃত্তের সম্মুখ অংশ থেকে ক্যারোটিড ধমনি হয়ে রক্ত মাথায় যায় এবং পশ্চাৎ প্রান্ত দুটি মিলিত হয়ে রুই মাছের দেহের প্রধান ধমনি ডরসাল অ্যাওর্টা (পৃষ্ঠীয় মহাধমনি) গঠন করে।৩. সামগ্রিক দেহে রক্ত পরিবহন:
ডরসাল অ্যাওর্টা থেকে সাবক্ল্যাভিয়ান, সিলিয়াকো-মেসেন্টেরিক, রেনাল, ইলিয়াক এবং কডাল ধমনির মাধ্যমে সারা দেহে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ সম্পন্ন হয়।সুতরাং, X (অ্যাফারেন্ট ধমনি) রক্তকে বিশোধনের জন্য ফুলকায় নিয়ে যায় এবং Y (ইফারেন্ট ধমনি) সেই বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে মূল ধমনিবার্তাসমূহ (সার্কুলাস সেফালিকাস ও ডরসাল অ্যাওর্টা) গঠনের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও