ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

শাহিন ও সাব্বির দুই বন্ধু একটি প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। একদিন শাহিন তার বন্ধু সাব্বিরকে বলল, আমি এমন একটি দেশে গিয়েছিলাম, যেখানে সমাজের মানুষের মধ্যে হৃদ্যতা, আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির কোনো অভাব নেই। একথা শুনে সাব্বির বলল, পৃথিবীর সকল মানুষইতো আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ.)-এর সন্তান। পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত।

  1. ক)

    'উখুওয়াত' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “অবশ্যই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই"- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শাহিনের বক্তব্য তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে? বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সাব্বির এর  বক্তব্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে? মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'উখুওয়াত' (اخوة) একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি বা বন্ধুত্ব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "অবশ্যই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই"—পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতের এই বাণীর মাধ্যমে ইসলামে ঈমানি ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
    ইসলামের দৃষ্টিতে সকল ঈমানদার ব্যক্তি ভৌগোলিক সীমারেখা, বর্ণ, ভাষা ও জাতীয়তার ঊর্ধ্বে উঠে অভিন্ন দ্বীনি আদর্শের বন্ধনে আবদ্ধ। একজন মুমিন অন্য মুমিনের সুখ-দুঃখের অংশীদার এবং তাদের সম্পর্ক রক্তের ভাইয়ের সম্পর্কের চেয়েও গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাই মুমিনদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ পরিহার করে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা কর্তব্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শাহিনের বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের 'ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি' (উখুওয়াত)-এর ধারণার প্রতি নির্দেশ করে।

    বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজে শান্তি ও সংহতি বজায় রাখার অন্যতম মূলভিত্তি হলো মানুষের মধ্যকার হৃদ্যতা, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক সহানুভূতি। ইসলাম মানবজাতিকে একটি একক পরিবারের মতো বিবেচনা করে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। মানুষে মানুষে হৃদ্যতা ও সম্প্রীতি বিদ্যমান থাকলে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও যুদ্ধবিগ্রহ দূর হয়। বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে যখন এই সম্প্রীতিবোধ জাগ্রত হয়, তখন একটি শান্তিপূর্ণ ও শোষণমুক্ত মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাব্বিরের বক্তব্য—"পৃথিবীর সকল মানুষই আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ.)-এর সন্তান"—বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিচে এর মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. সার্বজনীন মানব ভ্রাতৃত্বের প্রতিষ্ঠা: সমস্ত মানুষ একই উৎস থেকে সৃষ্টি—এই চেতনা মানুষের মন থেকে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও বর্ণবাদের অহংকার দূর করে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) ঘোষণা করেছিলেন, কোনো আরবের ওপর অনারবের এবং অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

    ২. জাতিগত ও ধর্মীয় সংঘাত নিরসন: বিশ্বশান্তির প্রধান অন্তরায় হলো বর্ণ, ভাষা, ধর্ম ও ভৌগোলিক বিভেদ। সাব্বিরের বক্তব্যে প্রকাশ পায় যে মানবজাতি মূলত এক অখণ্ড সত্তা। এই অনুভূতি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা জাগ্রত করে।

    ৩. ঐক্যবদ্ধ উন্নয়ন ও মানবিক সহযোগিতা: সাব্বির জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ঐক্য অপরিহার্য।

    সুতরাং, সাব্বিরের এই মানবিক ও ইসলামী চেতনা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং সংঘাতমুক্ত বিশ্ব গঠনে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অপরিহার্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন