সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ঢাকায় বসবাসকারী রানি সিসিমের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার একটি পাহাড়ী এলাকায়। কিছুদিন আগে তার মা মারা যাওয়ার পর সে মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তির মালিক হয়। রানি সিসিমের পার্লারে চাকরি করে সুতপা। সে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে। তার পিতাকে কারবারি বলে সম্বোধন করা হয়। সুতপাদের সমাজে নিজ বংশের সাত পুরুষের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়া নিষেধ। অন্তর্বিবাহ ও বহির্বিবাহ প্রচলিত আছে এবং বহু ও বিধবা বিবাহ দেখা যায়। সুতপাদের সমাজে প্যারালাল বিবাহ সীমিত আকারে প্রচলিত তবে চাচাতো ভাইবোনের বিবাহ নিষেধ।
- ক)(1)
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কাকে বলে?
- খ)(2)
নৃবিজ্ঞান সাওতালদের আদি অস্ট্রেলীয় মনে করেন কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
রানি সিসিম কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুতপাদের সমাজের সামাজিকরীতি বাংলাদেশের বৃহত্তর সমাজের তুলনায় ভিন্নতর—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মূলধারার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা নিজস্ব স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী জীবনধারায় অভ্যস্ত মানবগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শারীরিক বা দৈহিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যের কারণে নৃবিজ্ঞানীরা সাঁওতালদের আদি অস্ট্রেলীয় (Proto-Australoid) নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। সাঁওতালদের গায়ের রং গাঢ় তামাটে বা কালো, নাক চওড়া ও কিছুটা চ্যাপ্টা, চুল ঢেউখেলানো বা কোঁকড়ানো, ঠোঁট পুরু এবং গড়ন মাঝারি ধরনের। এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো আদি অস্ট্রেলীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষের সাথে হুবহু মিলে যায় বলেই সাঁওতালদের আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রানি সিসিম বাংলাদেশের 'গারো' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
বাংলাদেশের গারোরা মূলত ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। গারো সমাজের সবচেয়ে প্রধান ও অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো তাদের মাতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামো। গারো সমাজে পরিবারের প্রধান হন মা, বংশমর্যাদা ও পারিবারিক পদবি মায়ের দিক থেকে বর্তায় এবং পরিবারের সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হয় পরিবারের সবচেয়ে ছোট কন্যা (নকনা)।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রানি সিসিমের বাড়ি ময়মনসিংহের পাহাড়ি এলাকায় এবং মা মারা যাওয়ার পর সে মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করেছে। মাতৃতান্ত্রিক উত্তরাধিকার ও বসবাসের ভৌগোলিক অবস্থানের এই স্পষ্ট মিল থেকে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে রানি সিসিম গারো নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুতপাদের সমাজ বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের 'চাকমা' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করা হয়েছে, যাদের সামাজিক ও বৈবাহিক রীতি বাংলাদেশের বৃহত্তর বাঙালি সমাজের তুলনায় অনেকটাই ভিন্নতর—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে সুতপার পিতৃপরিচয়ে 'কারবারি' শব্দের উল্লেখ রয়েছে, যা চাকমা সমাজের গ্রামপ্রধানের পদবি। এছাড়া সুতপাদের সমাজে নিজস্ব গোত্র বা সাত পুরুষের মধ্যে বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট কিছু রক্তের সম্পর্কে বিয়ে অনুমোদিত বা নিষিদ্ধ হওয়ার বিশেষ নিয়ম রয়েছে।
বাংলাদেশের বৃহত্তর সমাজের (প্রধানত মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালি) সাথে চাকমাদের সামাজিক রীতির স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে:
১. গ্রাম্য বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: চাকমা সমাজে মৌজা ও পাড়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা থাকে, যেখানে হেডম্যান ও কারবারি সামাজিক বিচার-আচার ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখেন, যা বৃহত্তর সমাজের প্রশাসনিক ব্যবস্থার চেয়ে ভিন্ন।
২. বৈবাহিক বিধিনিষেধ: বৃহত্তর বাঙালি মুসলিম সমাজে কাজিনদের মধ্যে (চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইবোন) বিয়ে খুবই সাধারণ ও বৈধ হলেও চাকমা সমাজে নিজ গোত্রে বা সাত পুরুষের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ এবং চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে কঠোরভাবে বর্জনীয়।
৩. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার: চাকমারা প্রধানত থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হওয়ায় তাদের বিবাহ, মৃত্যু ও সামাজিক উৎসবের রীতিনীতি (যেমন বিজু উৎসব, চুল্লি অনুষ্ঠান) বৃহত্তর সমাজের তুলনায় সম্পূর্ণ নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর।অতএব, ঐতিহ্যগত বিচারব্যবস্থা, আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং বিশেষ বৈবাহিক নিয়মের কারণে সুতপাদের সমাজের সামাজিক রীতি বাংলাদেশের বৃহত্তর সমাজের চেয়ে স্বতন্ত্র ও ভিন্নতর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও