বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
শীলা নববর্ষের দিন খুব সুন্দর করে লাল পাড় সাদা সুতি শাড়ি পরল। মাথায় খোঁপা বাঁধল, পায়ে আলতা লাগাল। তার বান্ধবী সবিতাও সিঁদুর, আলতা ও কুমকুম ব্যবহার করল। শঙ্খের বালা ও চুড়ি পরল। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার পর শীলাদের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করল। শীলার মা ভাত, মাছ, মাংস, দধি ও ক্ষীরের ব্যবস্থা করলেন। নববর্ষের দিনটি শীলা ও তার বান্ধবীর খুব ভালো কাটলো।
- ক)(1)
বিহার কী?
- খ)(2)
স্তূপ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন যুগের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত যুগের খাওয়া-দাওয়ায় আভিজাত্যের ছাপ ছিল"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বিহার হলো বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বাসস্থান, সাধনা ও শিক্ষাদানের কেন্দ্র।
- খ)
স্তূপ হলো বুদ্ধ বা বৌদ্ধ সাধকদের দেহাবশেষ বা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্য নির্মিত গম্বুজের মতো উঁচু সৌধ।
বৌদ্ধরা একে পবিত্র মনে করে এবং এর চারপাশে প্রদক্ষিণ ও পূজা করে। প্রাচীন বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারের সঙ্গে অনেক স্তূপ নির্মিত হয়েছিল।
- গ)
উদ্দীপকের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের প্রাচীন যুগের বাংলার সামাজিক জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রাচীন বাংলায় নারীরা সাদা বা রঙিন সুতি শাড়ি পরত, খোঁপা বাঁধত এবং পায়ে আলতা দিত। সিঁদুর, শাঁখা ও চুড়ির মতো প্রসাধন ও অলংকারের প্রচলন ছিল। উদ্দীপকে শীলা ও সবিতার লাল পাড় সাদা শাড়ি, আলতা, সিঁদুর, কুমকুম ও শঙ্খের বালা ব্যবহার সেই সময়ের পোশাক ও সাজসজ্জারই প্রতিফলন। আবার ভাত, মাছ, মাংস, দধি ও ক্ষীরের আয়োজনও সেই যুগের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মেলে।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। প্রাচীন যুগের বাংলায় বিশেষ করে বিত্তবান ও অভিজাত শ্রেণির খাদ্যাভ্যাসে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
১. সাধারণ খাদ্য ছিল ভাত, ডাল, মাছ ও শাকসবজি। কিন্তু বিত্তবানরা এর সঙ্গে মাংস, দুধ, দই, ঘি ও ক্ষীরের মতো পদ খেতেন।
২. উৎসব ও অতিথি আপ্যায়নে নানা ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন, ফলমূল এবং পান-সুপারির আয়োজন করা হতো।
৩. বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ খাবারের আয়োজন সামাজিক মর্যাদার পরিচয় বহন করত।উদ্দীপকে শীলার মায়ের ভাত, মাছ, মাংস, দধি ও ক্ষীরের ব্যবস্থা সেই আভিজাত্যেরই প্রতিফলন। সুতরাং, প্রাচীন যুগের খাওয়া-দাওয়ায় আভিজাত্যের ছাপ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও