হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মলয় বাবু একজন ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে আসেন। মানুষের সাথে মিশে কাজ করেন। দরকার হলে অন্যের দুঃখ কষ্টকে নিজের দুঃখ-কষ্ট মনে করেন। সাধারণ মানুষের ভালোর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন। অপরদিকে বিনয় বাবু ভোরবেলা ঘুম থেকে জেগে সকল কাজ সম্পন্ন করেন। স্নান সেরে প্রতিমার সামনে বসে ঈশ্বরকে ডাকেন। বিমল বাবু চোখ বুঝে নির্জন স্থানে গাছের তলায় একাকী বসে সৃষ্টিকর্তাকে পাবার জন্য একমনে সাধনায় মগ্ন থাকেন।
- ক)(1)
পরমাত্মা কাকে বলে?
- খ)(2)
শান্তি প্রতিষ্ঠায় কে পৃথিবীতে নেমে আসেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মলয় বাবুর কাজের মধ্যে স্রষ্টার কোন রূপের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বিনয় বাবু ও বিমল বাবুর আরাধনার ধরণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যিনি জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন এবং সমগ্র সৃষ্টির মূল সত্তা, সেই পরম সত্তাকে পরমাত্মা বলে। যোগীরা ঈশ্বরকে পরমাত্মা নামে জানেন।
- খ)
শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবতার পৃথিবীতে নেমে আসেন। অবতার অর্থ উপর থেকে নিচে নামা বা অবতরণ করা।
পৃথিবীতে যখন দুষ্ট লোকের অত্যাচারে শিষ্টদের জীবন দুর্বিষহ হয় এবং শোক, দুঃখ ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, তখন ভগবান অবতাররূপে আবির্ভূত হন। তিনি দুষ্টদের বিনাশ করেন, সাধুদের রক্ষা করেন এবং ধর্ম সংস্থাপন করেন। ফলে জগতে আবার শান্তি ফিরে আসে। গীতায় (৪/৭-৮) শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন, তিনি যুগে যুগে এজন্য আবির্ভূত হন।
- গ)
মলয় বাবুর কাজের মধ্যে স্রষ্টার অবতার রূপের প্রতিফলন ঘটেছে।
অবতারের ধারণা: 'অবতার' শব্দের অর্থ উপর থেকে নিচে নামা বা অবতরণ করা। ভগবান বিষ্ণু যখন বিভিন্ন রূপ ধরে পৃথিবীতে নেমে আসেন, তখন তাঁকে অবতার বলা হয়। যখন দুষ্টের অত্যাচারে শিষ্টদের জীবন দুর্বিষহ হয়, তখন সাধুদের রক্ষা, দুষ্টের বিনাশ ও ধর্ম সংস্থাপনের জন্য তিনি আবির্ভূত হন। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, 'পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।' অবতার মানুষরূপে এলে মানুষের মতোই আচরণ করেন এবং মানুষের সুখ-দুঃখ ভোগ করেন।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: উদ্দীপকে মলয় বাবু সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে আসেন এবং মানুষের সাথে মিশে কাজ করেন। অন্যের দুঃখ-কষ্টকে তিনি নিজের দুঃখ-কষ্ট মনে করেন এবং সাধারণ মানুষের ভালোর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন। এ বৈশিষ্ট্যগুলো অবতারের সাথে মেলে, কারণ অবতারও জগতের কল্যাণে মানুষের মধ্যে নেমে আসেন এবং মানুষের মতো আচরণ করেন।
অতএব, মলয় বাবুর কাজে স্রষ্টার অবতার রূপ প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
উদ্দীপকের বিনয় বাবু ও বিমল বাবুর আরাধনার ধরন ভিন্ন। বিনয় বাবু সাকার উপাসনা এবং বিমল বাবু নিরাকার উপাসনা করেন। দুটি পথই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম।
হিন্দুধর্মে ঈশ্বর নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপও ধারণ করেন। তাই উপাসনা সাধারণত দুই ধরনের: সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনা এবং নিরাকার উপাসনা বা নির্গুণ উপাসনা। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, উভয় পথেই ক্লেশ আছে, তবে সাকার আরাধনা অপেক্ষাকৃত সহজ।
১. বিনয় বাবুর সাকার উপাসনা: বিনয় বাবু ভোরে উঠে সকল কাজ সম্পন্ন করে স্নানের পর প্রতিমার সামনে বসে ঈশ্বরকে ডাকেন। প্রতীক শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার। এ উপাসনা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী প্রভৃতি দেব-দেবীর প্রতিমাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়।
২. সগুণ ও ভক্তিযোগ: প্রতীক উপাসনাকে সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগও বলা হয়। এতে ঈশ্বর সাকাররূপে প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত থাকেন এবং ভক্ত পূজা, মন্ত্রপাঠ, আরতি ও কীর্তনের মাধ্যমে ভক্তি প্রকাশ করেন।
৩. বিমল বাবুর নিরাকার উপাসনা: বিমল বাবু চোখ বুজে নির্জন স্থানে গাছের তলায় একা বসে একমনে সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার সাধনা করেন। নিরাকার উপাসনা ধ্যান সাধনার মাধ্যমে করা হয়। এতে ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ্য করা হয় না, অদৃশ্য ঈশ্বরকে উপলব্ধি করে উপাসনা করা হয়।
৪. জ্ঞানযোগের সাথে সম্পর্ক: জ্ঞানযোগ নিরাকার উপাসনার একটি অংশ। বিমল বাবুর একাগ্র সাধনা এ ধারার অনুসারী।
সুতরাং, বিনয় বাবুর পথ সাকার ও ভক্তিমূলক, আর বিমল বাবুর পথ নিরাকার ও ধ্যানমূলক। দুজনের উদ্দেশ্যই এক ঈশ্বরের উপাসনা, শুধু পথ আলাদা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও