ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
শিক্ষক শ্রেণিতে পবিত্র কুরআনের একটি সূরা পাঠদানকালে শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে বলেন, মহানবি (স) ইসলামের দাওয়াত দিলে লোকেরা তাঁকে কবি, গণক, যাদুকর ও পাগল বলে কষ্ট দিত। সিজদায় গেলে উটের নাড়িভূড়ি শরীরের উপর চাপিয়ে দিত। অপরদিকে মাহজাবিন অত্যন্ত সুন্দরী একজন মহিলা, তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার ননদ তাবাসসুম বলল, আল্লাহ পাক মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি' দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষের উচিত আল্লাহ পাকের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
- ক)(1)
কুরআন কী?
- খ)(2)
হযরত উসমান (রা)-কে 'জামিউল কুরআন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিক্ষক শ্রেণিতে পবিত্র কুরআনের যে সূরা নিয়ে আলোচনা করেছেন তার শিক্ষা- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তাবাসসুমের কথা পাঠ্যবইয়ের যে সূরার সাথে সম্পৃক্ত তা চিহ্নিতপূর্বক মানব জীবনে এই সূরার শিক্ষার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর ওপর জিবরাইল (আ) এর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে।
- খ)
হযরত উসমান (রা) কুরআনকে একটি মান্য কিরাআতে লিপিবদ্ধ করে এর কয়েকটি অভিন্ন কপি তৈরি করান এবং বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠান। এর ফলে কিরাআত নিয়ে মতভেদ দূর হয় এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একই পাঠে ঐক্যবদ্ধ হয়। কুরআনকে একই গ্রন্থে সংরক্ষণ ও প্রচারের এই অবদানের কারণে তাঁকে 'জামিউল কুরআন' (কুরআন সংকলক) বলা হয়।
- গ)
শিক্ষক সূরা আল-আলাক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে নামাজে বাধাদানকারীর পরিণতির কথা আছে।
শিক্ষা:
১. জ্ঞান অর্জন ও পড়ার গুরুত্ব, কারণ ওহির সূচনা হয়েছে 'পড়ো' দিয়ে।
২. আল্লাহ মানুষকে সামান্য বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন, তাই অহংকার করা উচিত নয়।
৩. সত্যের বিরোধিতাকারী ও সালাতে বাধাদানকারীর পরিণতি খারাপ। হক পথে থাকা ব্যক্তিকে কষ্ট দিলে আল্লাহ তা দেখেন।
৪. সিজদা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। - ঘ)
তাবাসসুমের কথা সূরা আত-তীনের সাথে সম্পৃক্ত, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, তিনি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছেন।
১. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা: মানুষের সুন্দর গঠন আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত, তাই তাঁর শোকর আদায় করা কর্তব্য।
২. ইমান ও সৎকর্ম: যারা ইমান আনে ও সৎকাজ করে, তারা চিরস্থায়ী পুরস্কার পাবে। আর যারা তা করে না, তাদের নৈতিক অবনতি ঘটে এবং তারা নিম্নতম স্তরে নেমে যায়।
৩. জবাবদিহির চেতনা: সূরার শেষে আল্লাহকে শ্রেষ্ঠ বিচারক বলা হয়েছে, যা মানুষকে পরকালের জবাবদিহির কথা স্মরণ করায়।সুতরাং, সৌন্দর্যের অহংকার না করে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চললেই মানুষ প্রকৃত মর্যাদা লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও