সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ছক-১ | ছক-২
শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক অর্থনীতি ভোঁতা ও অমসৃণ পাথরের হাতিয়ারের ব্যবহারযাষাবর জীবন আগুনের ব্যবহার | কৃষি উৎপাদন সূচনা ধারালো ও মসৃণ পাথরের হাতিয়ারের ব্যবহার বাসস্থান নির্মাণে পারদর্শিতা চাকার আবিষ্কার

  1. ক)

    প্রত্নতত্ত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্রোঞ্জযুগ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছক-১-এ কোন যুগের সমাজের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মানব সভ্যতায় ছক-২-এ বর্ণিত যুগের অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রত্নতত্ত্ব হলো অতীতের মানব সমাজের বস্তুগত নিদর্শন বা অবশেষ খনন ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অতীত মানবজীবন ও সংস্কৃতি পুনর্নির্মাণের বিজ্ঞান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তামা ও টিনের সংমিশ্রণে ব্রোঞ্জ ধাতু তৈরি করে যে যুগে মানুষ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র, হাতিয়ার ও পাত্র নির্মাণ করতে শেখে, তাকে ব্রোঞ্জযুগ বলা হয়।

    নবোপলীয় যুগের পর মানবসভ্যতায় ধাতুর ব্যবহার শুরু হয়। ব্রোঞ্জ ছিল তামার তুলনায় অধিক শক্ত ও টেকসই। ব্রোঞ্জের হাতিয়ার কৃষি উৎপাদন ও শিল্প বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল এবং এই যুগেই মেসোপটেমিয়া, মিশর ও সিন্ধু সভ্যতার মতো বড় বড় নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছক-১-এ প্রাক-ঐতিহাসিক মানব ইতিহাসের 'প্রাচীন প্রস্তর যুগ' বা 'পুরাপ্রস্তর যুগ' (Paleolithic Age)-এর সমাজের কথা বলা হয়েছে।

    পুরাপ্রস্তর যুগ ছিল মানবজাতির আদিমতম পর্যায়, যখন মানুষ জীবনধারণের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ যুগের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল পশু শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের মাধ্যমে খাদ্য জোগাড় করা, ভোঁতা ও অমসৃণ পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করা এবং স্থায়ী বাসস্থানের অভাবে যাযাবর জীবনযাপন করা। এছাড়া এ যুগের সবচেয়ে যুগান্তকারী অগ্রগতি ছিল আগুনের আবিষ্কার ও ব্যবহার।

    উদ্দীপকের ছক-১-এ উল্লিখিত লক্ষণসমূহ—যেমন 'শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক অর্থনীতি', 'ভোঁতা ও অমসৃণ পাথরের হাতিয়ারের ব্যবহার', 'যাযাবর জীবন' এবং 'আগুনের ব্যবহার'—হুবহু প্রাচীন প্রস্তর যুগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-২-এ মানব সভ্যতার 'নব্য প্রস্তর যুগ' বা 'নবোপলীয় যুগ' (Neolithic Age)-এর কথা বলা হয়েছে। মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে এ যুগের অবদান অত্যন্ত যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক।

    এ যুগের অবদানসমূহ নিচে মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. কৃষির সূচনা ও খাদ্য উৎপাদন: নবোপলীয় যুগে মানুষ শিকারি অবস্থা থেকে খাদ্য উৎপাদকে রূপান্তরিত হয়। কৃষির সূচনার মাধ্যমে মানব ইতিহাসের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, যাকে ঐতিহাসিক গর্ডন চাইল্ড 'নবোপলীয় বিপ্লব' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    ২. স্থায়ী বসতি ও সামাজিক সংগঠনের জন্ম: কৃষিভিত্তিক জীবনধারার প্রয়োজনে মানুষ স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ শুরু করে। এর ফলে গ্রামভিত্তিক স্থায়ী সমাজের পত্তন ঘটে এবং পরিবার ও সামাজিক কাঠামোর বিকাশ লাভ করে।

    ৩. চাকার আবিষ্কার: এ যুগের সবচেয়ে বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগত আবিষ্কার ছিল চাকা। চাকার উদ্ভাবন একাধারে পরিবহন ব্যবস্থা, মাটির পাত্র নির্মাণ (কুমোরের চাকা) ও দূরবর্তী বাণিজ্যের প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রাখে।

    ৪. উন্নত ও ধারালো হাতিয়ারের ব্যবহার: কৃষিকাজ ও আত্মরক্ষার সুবিধার জন্য মানুষ এ যুগে মসৃণ, ধারালো ও ব্যবহারোপযোগী পাথরের উন্নত হাতিয়ার তৈরি করতে শেখে।

    পরিশেষে বলা যায়, ছক-২-এ বর্ণিত নবোপলীয় যুগেই মানুষের খাদ্য উৎপাদনের ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং স্থায়ী সমাজ গঠনের ভিত্তি রচিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মহান নগর সভ্যতাসমূহ গড়ে তোলার সোপান তৈরি করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন