যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
মনের মৌলিক অবস্থাসমূহের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা যায় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে "ক" চিহ্নিত স্থানে কী প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যাখ্যার কি একটি যথার্থ প্রক্রিয়া? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জটিল, দুর্বোধ্য, অস্পষ্ট বা অনির্দিষ্ট বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করার নামই ব্যাখ্যা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনের মৌলিক অবস্থাসমূহ—যেমন: আনন্দ, বেদনা, ক্রোধ, অনুভূতি ইত্যাদি একক ও সরল প্রকৃতির হওয়ায় এদের চেয়ে অধিকতর মৌলিক কোনো বিষয়ের অধীনে আনা সম্ভব নয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নিয়ম অনুযায়ী কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে হলে তাকে কোনো সার্বিক বা অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করতে হয় অথবা বিশ্লেষণ করতে হয়। যেহেতু মনের মৌলিক অনুভূতিগুলো অবিভাজ্য এবং এদের কোনো সাধারণ পূর্ববর্তী মানসিক কারণের সাথে সংযুক্ত করা যায় না, তাই মনের মৌলিক অবস্থাসমূহের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্থানে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' প্রতিফলিত হয়েছে।
যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, ব্যাখ্যা প্রধানত দুই প্রকার—১. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং ২. লৌকিক ব্যাখ্যা। উদ্দীপকের ছকে ব্যাখ্যার একটি শাখা হিসেবে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' দেওয়া রয়েছে; সুতরাং অপর শাখা 'ক' চিহ্নিত স্থানে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' প্রতিফলিত হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো এমন একটি পদ্ধতি যাতে কোনো ঘটনার পেছনের প্রকৃত ও কার্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার করে তাকে সাধারণ নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সবসময় বস্তুনিষ্ঠ, কারণ-নির্ভর এবং যাচাইযোগ্য। এটি মনগড়া বা অতিপ্রাকৃতিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, বরং ঘটনার অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও প্রাকৃতিক নিয়মাবলির ভিত্তিতে বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে। উদ্দীপকে ব্যাখ্যার মূল বিভাজনকে উপস্থাপন করায় 'ক' চিহ্নিত স্থানটি স্পষ্টতই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যাখ্যার একটি যথার্থ প্রক্রিয়া নয়—আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত। নিচে আমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো:
১. কার্যকারণ সম্পর্কের অনুপস্থিতি: লৌকিক ব্যাখ্যা কোনো বিষয়ের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করতে পারে না। এটি সাধারণত আপাতসাদৃশ্য কিংবা বাইরের চাক্ষুষ রূপ দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা যুক্তিযুক্ত নয়।
২. অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভরতা: লৌকিক ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক ও বাস্তব ঘটনাকে ভূত-প্রেত, দেবা-দেবী, জাদুবিদ্যা বা অলৌকিক শক্তির কারসাজি বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। যেমন: চন্দ্রগ্রহণকে রাহু নামক রাক্ষসের গ্রাস বলে মনে করা। এতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয় না।
৩. যাচাইযোগ্যতার অভাব: বৈজ্ঞানিক সত্যের মতো লৌকিক ব্যাখ্যার সত্যতা বাস্তব পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যায় না। এটি মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৪. সার্বজনীনতার অভাব: লৌকিক ব্যাখ্যা একেক ব্যক্তি বা সমাজের বিশ্বাস অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, ফলে এর কোনো সার্বজনীন বা নৈর্ব্যক্তিক গ্রহণযোগ্যতা থাকে না।
অতএব, যেহেতু লৌকিক ব্যাখ্যা সত্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় এবং কুসংস্কার ও অজ্ঞতাকে প্রশ্রয় দেয়, তাই এটি কখনোই ব্যাখ্যার যথার্থ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া হতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও