‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

X, Y ও z তিন জনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে একটি কারবার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনজনের মালিকানার অংশও সমান নয়। মূলধন স্বল্পতার কারণ তারা লাভবান হচ্ছেন না। সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য তারা শেয়ারও বিক্রি করতে পারছে না। অথচ পাশের ‘এ্যাপেক্স লিমিটেড কোম্পানি' প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রচুর মূলধন সংগ্রহ করেছে।

  1. ক)

    একমালিকানা কারবারের সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    যৌথ মূলধনী কারবার দীর্ঘস্থায়ী হয় কেন ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তিনজনের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের এবং তার বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    X, Y ও Z এর প্রতিষ্ঠানকে উদ্দীপকের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের মত রূপান্তর করা যায় কি এবং কীভাবে?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে কারবারের মালিক ও পরিচালক একজন মাত্র ব্যক্তি এবং তিনিই যাবতীয় ঝুঁকি ও লাভ-লোকসান বহন করেন, তাকে একমালিকানা কারবার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌথ মূলধনী কারবার আইনের দ্বারা সৃষ্ট এক কৃত্রিম ও চিরন্তন অস্তিত্বসম্পন্ন সত্ত্বা হওয়ায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    আইনগত স্বাতন্ত্র্যের কারণে কোনো শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যু, দেউলিয়াত্ব বা শেয়ার হস্তান্তরের ফলে এ জাতীয় কোম্পানির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় না। কেবল নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ কোম্পানির বিলোপসাধন ঘটতে পারে। তাই যৌথ মূলধনী কারবার দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে X, Y ও Z-এর প্রতিষ্ঠানটি একটি 'অংশীদারি কারবার'।

    ১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন অনুসারে, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্কের দ্বারা যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, তাকে অংশীদারি কারবার বলে। উদ্দীপকে X, Y ও Z চুক্তিবদ্ধ হয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তারা শেয়ার বিক্রি করতে পারেন না, যা অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

    এই কারবারের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক: এটি অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত হয়।
    ২. একাধিক সদস্য: সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ এবং সর্বোচ্চ ২০ জন হয়।
    ৩. মূলধন সরবরাহ ও মালিকানা: অংশীদারগণ চুক্তি অনুযায়ী মূলধন সরবরাহ করেন এবং তাদের মালিকানার অংশ সমান বা অসমান হতে পারে।
    ৪. সীমাবদ্ধ শেয়ার হস্তান্তরযোগ্যতা: অংশীদারগণ চাইলেই বাইরের কোনো ব্যক্তির কাছে তাদের অংশ বা শেয়ার হস্তান্তর করতে পারেন না।
    ৫. অসীম দায়: সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় অংশীদারদের দায় সাধারণত অসীম হয়ে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, X, Y ও Z-এর অংশীদারি প্রতিষ্ঠানকে উদ্দীপকের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ 'পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি'তে রূপান্তর করা সম্ভব।

    বিদ্যমান ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে একটি অংশীদারি কারবারকে যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে রূপান্তর করা যায়। রূপান্তরের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে:

    ১. সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করতে হলে ন্যূনতম ৭ জন সদস্যের প্রয়োজন হয়। তাই X, Y ও Z-কে আরও অন্তত ৪ জন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
    ২. দলিলপত্র প্রস্তুত: কোম্পানির মূল সনদ বা স্মারকলিপি (Memorandum of Association) এবং অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলীর জন্য পরিমেল নিয়মাবলী (Articles of Association) তৈরি করতে হবে।
    ৩. নিবন্ধন সংগ্রহ: যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) থেকে আবেদন করে নিবন্ধনের সনদ বা সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন সংগ্রহ করতে হবে।
    ৪. প্রসপেক্টাস ও শেয়ার ইস্যু: বাজারে সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিবরণপত্র (Prospectus) প্রকাশ করতে হবে।
    ৫. কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র লাভ: প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে।

    সুতরাং, আইনগত বিধিবিধান মেনে প্রয়োজনীয় সদস্য বৃদ্ধি ও নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের কারবারকে উদ্দীপকের 'এ্যাপেক্স লিমিটেড কোম্পানি'র মতো প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন