জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    সাইনুসাইটিস কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'P' ও 'Q' এর গমনাগমন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কিছু অসচেতন মানুষের বদঅভ্যাস উদ্দীপকের অঙ্গটির ক্ষতিসাধন করে— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করোটিকার অস্থির অভ্যন্তরে অবস্থিত সাইনাসের মিউকাস পর্দার প্রদাহকে সাইনুসাইটিস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো কারণে স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে যান্ত্রিক উপায়ে অথবা বাহ্যিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখার প্রক্রিয়াকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস (Artificial respiration) বলা হয়। সাধারণত পানিতে ডোবা, বিষাক্ত গ্যাস গ্রহণ বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে জীবন রক্ষার্থে মুখ দিয়ে মুখে ফুঁ দিয়ে কিংবা ভেন্টিলেটরের সাহায্যে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে শ্বসনতন্ত্র প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে 'P' হলো ফুসফুসে বায়ু প্রবেশ অর্থাৎ প্রশ্বাস (Inspiration) এবং 'Q' হলো ফুসফুস থেকে বায়ু নির্গমন অর্থাৎ নিঃশ্বাস (Expiration)। নিম্নে এদের গমনাগমন বর্ণনা করা হলো:

    ১. 'P' এর গমনাগমন (প্রশ্বাস ক্রিয়া):
    প্রশ্বাস একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় পিভটের মতো কাজ করা ডায়াফ্রামের পেশি সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে এবং সমতল হয়। একই সময়ে এক্সটার্নাল ইন্টারকোস্টাল পেশির সংকোচনে স্টার্নাম ও পরশুকাগুলো উপরের দিকে এবং বাইরের দিকে প্রসারিত হয়। ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়ে এবং ফুসফুসের ভেতরের বায়ুচাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তুলনায় হ্রাস পায়। চাপের সমতা রক্ষার্থে পরিবেশ থেকে O2-সমৃদ্ধ বায়ু নাসারন্ধ্র, গলবিল, স্বরযন্ত্র ও ট্রাকিয়া হয়ে ফুসফুসের অ্যালভিওলাইতে প্রবেশ করে।

    ২. 'Q' এর গমনাগমন (নিঃশ্বাস ক্রিয়া):
    নিঃশ্বাস একটি নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া। প্রশ্বাস শেষ হওয়ার পর ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশি শিথিল বা রিলাক্সড হয়ে যায়। ফলে ডায়াফ্রাম আবার ধনুকের মতো উত্তল হয়ে আগের অবস্থানে ফিরে আসে এবং পরশুকাগুলো নিচে নেমে যায়। এতে বক্ষগহ্বর পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসায় এর আয়তন হ্রাস পায় এবং ফুসফুসের ভেতরের বায়ুচাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে ফুসফুস থেকে অতিরিক্ত CO2-সমৃদ্ধ বায়ু অ্যালভিওলাই থেকে ট্রাকিয়া ও নাসাপথের মাধ্যমে বাইরে উন্মুক্ত পরিবেশে নির্গত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রধান অঙ্গটি হলো ফুসফুস (Lungs)। কিছু অসচেতন মানুষের অন্যতম প্রধান বদঅভ্যাস হলো 'ধূমপান' (Smoking), যা ফুসফুসের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সিলিয়া ও মিউকাসের ক্ষতি: সিগারেটের ধোঁয়ায় নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড, টার ও অসংখ্য বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। এগুলো শ্বাসনালির সিলিয়াযুক্ত কোষগুলোকে অবশ ও ধ্বংস করে দেয়। ফলে জীবাণু ও ক্ষতিকর কণা ফুসফুসে জমে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি করে।

    ২. ব্রঙ্কাইটিস ও এমফাইসিমা: দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ব্রঙ্কাস ও ব্রঙ্কিওলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, যাকে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস বলে। এছাড়া তামাকের ধোঁয়ার কারণে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে ও বিনষ্ট হয়ে এমফাইসিমা (Emphysema) রোগ দেখা দেয়, যার ফলে গ্যাসীয় আদান-প্রদানের কার্যকর ক্ষেত্রফল ব্যাপকভাবে কমে যায়।

    ৩. ফুসফুসের ক্যান্সার: তামাকের ধোঁয়ায় থাকা বেনজোপাইরিন ও টার অত্যন্ত ক্ষতিকর কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান। অসচেতনভাবে ধূমপান করার ফলে ফুসফুসের কোষসমূহে মিউটেশন ঘটে এবং কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি শুরু হয়ে ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। ফুসফুস ক্যান্সারের প্রধান কারণই হলো ধূমপান।

    ৪. অক্সিজেন পরিবহন হ্রাস: ধূমপানের মাধ্যমে গৃহীত কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেনের চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি তীব্রতায় যুক্ত হয়ে কার্বোক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। ফলে ফুসফুসের রক্ত সংবহন এবং দেহকোষে অক্সিজেন সরবরাহ ভীষণভাবে ব্যাহত হয়।

    অতএব, ধূমপান নামক মারাত্মক বদঅভ্যাস ফুসফুসের গঠন ও কার্যকারিতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন