ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

হাদি ও সাদি দুই বন্ধু। হাদি রমজান মাসে দিনের বেলায় হোটেলে পেটভরে আহার করে। আযানের শব্দ শুনেও মসজিদে যায় না। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে এসব অপ্রয়োজনীয় কাজ। তার ধারণা এসব কাজের জন্য আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন না। অন্যদিকে সাদি নিয়মিত সালাত আদায় করলেও মাঝে মাঝে মাজারে গিয়ে সিজদা করে। সে মনে করে বিশাল জগৎ পরিচালনায় একাধিক শক্তি বিদ্যমান। তার এহেন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেবকে অবহিত করলে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ আল্লাহ কখনই ক্ষমা করেন না।

  1. ক)

    নিফাকের পরিচয় দাও।

    (1)
  2. খ)

    তকদিরে বিশ্বাস করা জরুরি কেন? বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    হাদির কর্মকাণ্ডে আকাইদের কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদির কর্মকাণ্ড চিহ্নিতপূর্বক ইমাম সাহেবের বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অন্তরে অবিশ্বাস গোপন রেখে মুখে ইসলামের স্বীকৃতি দেওয়া ও নিজেকে মুসলমান বলে প্রকাশ করাকে নিফাক (কপটতা) বলে।

  2. খ)

    তকদির হলো ভালো-মন্দ সবকিছু আল্লাহ তায়ালার জ্ঞান ও নির্ধারণ অনুযায়ী ঘটে—এই বিশ্বাস। এটি ইমানের মৌলিক বিষয়গুলোর একটি, তাই এতে বিশ্বাস না করলে ইমান পূর্ণ হয় না। তকদিরে বিশ্বাস থাকলে মানুষ সফলতায় অহংকার করে না, বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে। তবে মানুষকে চেষ্টা বা কর্ম করতে হবে, কারণ কর্মের স্বাধীনতাও আল্লাহ দিয়েছেন।

  3. গ)

    হাদির কর্মকাণ্ডে আকাইদের কুফর বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

    কুফর অর্থ অস্বীকার করা বা অবিশ্বাস করা। ইসলামের ফরজ বিধান অস্বীকার করা বা তাকে তুচ্ছ ও অপ্রয়োজনীয় মনে করাও কুফরের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে হাদি রমজান মাসে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় পেটভরে খায়, আযান শুনেও মসজিদে যায় না এবং এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বলে। সে মনে করে এসব কাজের জন্য আল্লাহ শাস্তি দেবেন না। ফরজ সাওম ও সালাতকে এভাবে অবজ্ঞা করা আল্লাহর নির্দেশ ও পরকালীন শাস্তির প্রতি অবিশ্বাসের প্রকাশ। তাই তার কাজে কুফর ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সাদির কর্মকাণ্ড হলো শিরক। সে মাজারে সিজদা করে এবং মনে করে জগৎ পরিচালনায় একাধিক শক্তি আছে। আল্লাহর সত্তা, গুণ বা ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার করাই শিরক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা এবং একাধিক শক্তিতে বিশ্বাস করা তাওহিদের সরাসরি পরিপন্থী।

    ইমাম সাহেবের বক্তব্য ‘এ ধরনের অপরাধ আল্লাহ কখনই ক্ষমা করেন না’ যুক্তিসংগত। কারণ:
    ১. আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্য পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮)।
    ২. শিরক ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহিদকে অস্বীকার করে।
    ৩. শিরক করা অবস্থায় তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে।

    সুতরাং, ইমাম সাহেবের বক্তব্য কুরআনের নির্দেশনার সাথে সংগতিপূর্ণ। সাদির উচিত খাঁটি অন্তরে তাওবা করে একত্ববাদে ফিরে আসা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন