ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: আজমল নদীতীরের বাসিন্দা। তার গ্রামটিতে প্রতিবছর বর্ষাকালে নদীকে কেন্দ্র করে ঘটা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। দৃশ্যকল্প-২: মালিহা টেলিভিশনে দেখল একটি দুর্যোগে একটি দেশ হঠাৎ কেঁপে উঠেছে। দৃশ্যকল্প-৩: মঈনদের গ্রামে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ি-ঘর, প্রাণিকুল এবং ফসলাদি ভেসে গিয়েছে।

  1. ক)

    জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বনজ সম্পদকে কোনো দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সবচেয়ে বড় উপাদান বলা যায় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ ঘটা দুর্যোগটি কী কী কারণে ঘটে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ ও ৩-এ ঘটা দুর্যোগ দুটির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে বলে তুমি মনে করো? মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় জীব, অর্থাৎ উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের প্রজাতি এবং তাদের বাসস্থান ও পরিবেশের মধ্যকার বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।

  2. খ)

    বনভূমি জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, মাটির ক্ষয় ও ভূমিধস রোধ করে, বৃষ্টিপাত বাড়ায় এবং আবহাওয়া আর্দ্র রাখে। উপকূলীয় বন সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কমায়। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। এসব কাজ অন্য কোনো সম্পদ একত্রে করতে পারে না। তাই বনজ সম্পদকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সবচেয়ে বড় উপাদান বলা যায়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ষাকালে নদীকে কেন্দ্র করে ঘর-বাড়ি বিলীন হওয়ার দুর্যোগটি নদীভাঙন। নদীভাঙনের কারণগুলো:

    ১. নদীর প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবেগ: বর্ষায় নদীর পানির স্রোত বেড়ে তীর ক্ষয় করে।
    ২. নদীর গতিপথ পরিবর্তন: গতিপথ বদলালে তীরের নতুন অংশে ভাঙন শুরু হয়।
    ৩. বৃক্ষ নিধন: তীরের গাছ কেটে ফেললে মাটি আলগা হয়ে ভেঙে পড়ে।
    ৪. জলবায়ু পরিবর্তন: এছাড়া নদীগর্ভে শিলার উপাদান, বাহিত শিলার কঠিনতা, নদীগর্ভে ফাটল ও রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতিও ভাঙনের কারণ।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর দুর্যোগ ভূমিকম্প এবং দৃশ্যকল্প-৩ এর দুর্যোগ বন্যা। দুটির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নিচের পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

    ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে:
    ১. ভূমিকম্প সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে গণসচেতনতা তৈরি করা।
    ২. সারাদেশে ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা।
    ৩. ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং প্রতি জেলায় উদ্ধারকাজের যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ করা।

    বন্যার ক্ষেত্রে:
    ১. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
    ২. নদীর দুই তীরে বেড়িবাঁধ, বনায়ন, নদী খনন ও জলাধার নির্মাণ করা।
    ৩. বন্যার সর্বোচ্চ লেভেলের উপরে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।

    সুতরাং, পূর্বপ্রস্তুতি, সচেতনতা ও পরিকল্পিত অবকাঠামোর মাধ্যমে দুটি দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন