হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

রাজীব ও দীপঙ্কর আচন্ডালে হরিনাম বিলাতো। একদিন মদ্যপ দুই ভাই 'ক' ও 'খ' দীপঙ্করের সম্মুখে পড়ে। সে সময় দীপঙ্কর হরিনামে মেতে ছিলেন। তা দেখে 'ক' তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে দীপঙ্করের মাথায় আঘাত করে। একথা শুনে রাজীব ছুটে আসে। পরবর্তীতে দুই ভাই ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলে রাজীব ও দীপঙ্কর দুই ভাইকে ক্ষমা করে প্রেমভক্তি দিয়ে আপন করে নিলেন।

  1. ক)

    অবতার কয় ধরনের?

    (1)
  2. খ)

    শ্রীমা আশ্রমে ব্যায়ামাগার গড়ে তুললেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দীপঙ্কর তোমার পঠিত বিষয়ের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাজীব প্রভু শ্রীচৈতন্যেরই প্রতিচ্ছবি'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অবতার দুই ধরনের- পূর্ণাবতার ও অংশাবতার।

  2. খ)

    শ্রীমা বুঝতে পেরেছিলেন যে আধ্যাত্মিক সাধনা করতে হলে শরীরকে সুস্থ রাখা প্রয়োজন এবং এজন্য যোগব্যায়াম দরকার।
    তাই আশ্রমবাসীরা যেন সুস্থ দেহ ও মন নিয়ে সাধনা করতে পারেন, সেজন্য তিনি আশ্রমে একটি ব্যায়ামাগার গড়ে তোলেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকের দীপঙ্করের সাথে পাঠ্যবইয়ের প্রভু নিত্যানন্দ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

    প্রভু নিত্যানন্দ ১৪৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বীরভূমের একচক্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম কুবের। তিনি শ্রীগৌরাঙ্গের সাথে নবদ্বীপে নেচে-গেয়ে হরিনাম বিলিয়েছেন এবং জাতিভেদহীন প্রেমধর্ম প্রচার করেছেন।

    সাদৃশ্য: উদ্দীপকে দীপঙ্কর হরিনামে মেতে ছিলেন, তখন মদ্যপ দুই ভাই 'ক' ও 'খ' তাঁর সম্মুখে পড়ে। 'ক' লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। ঠিক তেমনি নিত্যানন্দ ও হরিদাস কৃষ্ণনাম করতে করতে যাচ্ছিলেন, তখন মদ্যপ জগাই-মাধাইয়ের সাথে তাঁদের দেখা হয়। মাধাই ভাঙা কলসির কানা ছুড়ে মারলে নিত্যানন্দের মাথা কেটে রক্ত ঝরে। তবু তিনি ক্ষতস্থান চেপে কৃষ্ণনাম গেয়েই চললেন। পরে মাধাই অনুতপ্ত হলে নিত্যানন্দ তাঁদের ক্ষমা করে বুকে টেনে নেন। দীপঙ্করও দুই ভাইকে ক্ষমা করে প্রেমভক্তি দিয়ে আপন করে নেন। তাই দীপঙ্কর ও নিত্যানন্দের আচরণে অদ্ভুত মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    রাজীবকে শ্রীচৈতন্যের (শ্রীগৌরাঙ্গের) প্রতিচ্ছবি বলা যথার্থ। শ্রীচৈতন্য বা নিমাই পণ্ডিত নবদ্বীপে আচণ্ডালে প্রেমভক্তি ও হরিনাম প্রচার করেছিলেন। উদ্দীপকের রাজীব ও দীপঙ্করও 'আচণ্ডালে হরিনাম' বিলাতেন।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী গৌর-নিতাই নেচে-গেয়ে হরিনাম বিলিয়েছেন। তাঁদের প্রেমধর্মে জাতিভেদ বা উঁচু-নিচু ছিল না। তখন সমাজে শুষ্ক ধর্মাচরণ প্রবল ছিল এবং মানবপ্রেম চাপা পড়েছিল। তাই প্রেমভক্তি দিয়ে তাঁরা সবাইকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন।

    ১. সংবাদ পেয়ে ছুটে আসা: নিত্যানন্দ আহত হওয়ার খবর শুনে শ্রীগৌরাঙ্গ দলবল নিয়ে ছুটে এসেছিলেন। উদ্দীপকেও দীপঙ্করের আঘাতের কথা শুনে রাজীব ছুটে আসে।
    ২. ক্ষমা ও উদারতা: গৌরাঙ্গ প্রথমে জগাই-মাধাইকে কঠোর দণ্ড দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিত্যানন্দের অনুরোধে শান্ত হয়ে জগাইকে বুকে টেনে নেন এবং মাধাইকে ক্ষমার পথ দেখান। রাজীবও ভুল বুঝে ক্ষমা চাওয়া দুই ভাইকে ক্ষমা করেছে।
    ৩. প্রেমভক্তি দিয়ে আপন করে নেওয়া: গৌর-নিতাই প্রেমভক্তি ও কৃষ্ণনাম কীর্তন দিয়ে জগাই-মাধাইকে উদ্ধার করে আপন করে নেন। রাজীব-দীপঙ্করও দুই মদ্যপ ভাইকে প্রেমভক্তি দিয়ে আপন করে নিয়েছে।
    ৪. অহিংসা ও ভেদাভেদ দূর করা: হিংসার জবাব হিংসায় নয়, প্রেম দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ কমে।

    সুতরাং, রাজীবের ঘটনায় শ্রীচৈতন্যের ক্ষমা, প্রেম ও হরিনাম প্রচারের আদর্শই ফুটে উঠেছে। কাজেই রাজীব প্রভু শ্রীচৈতন্যেরই প্রতিচ্ছবি- উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন