বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
সুপ্রভা প্রভুত্ব করার চেয়ে নির্ভর করিতেই ভালোবাসে বেশি, আদর পাওয়াটাইতার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্য। মন্দার গৃহিণীপনার ভিত্তিও ওইখানেই-সুপ্রভাকে সে নয়নের মণি করিয়া রাখিয়াছে। কে বলিবে সুপ্রভা তাহার সতীন?স্নেহ-যতেœ সুপ্রভার দিনগুলিকে সে ভরাট করিয়া রাখে।... সতীনের সংসারেওতাই এখানে কলহ-বিবাদ মান-অভিমান মন-কষাকষি নাই
- ক)(1)
ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম কী?
- খ)(2)
“এখন সে ঝড়ের মুখে উড়ে চলা পাতা নয়, সচ্ছলতায় শিকড়গাড়াবৃক্ষ”- উদ্ধৃতিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
“উদ্দীপকের সাথে ‘লালসাল’ উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনার সাদৃশ্যরয়েছে।-বুঝিয়ে লেখ।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ‘মন্দার’ ও ‘সুপ্রভার’ চেয়ে পাঠ্য উপন্যাসের রহিমা ওজমিলা অধিকতর প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী।”- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম মতলুব খাঁ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে মজিদের অতীত নিঃস্ব ও ভাসমান জীবনের তুলনায় মহব্বতনগর গ্রামে মাজারকে কেন্দ্র করে অর্জিত বর্তমান নিরাপদ, নিশ্চিত ও প্রতিপত্তিশালী স্থায়ী অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
অতীতে মজিদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা ছিল না; অনাহার-অর্ধাহারে ঝড়ে উড়ে যাওয়া শুকনো পাতার মতোই সে জীবিকার সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে বেড়াত। কিন্তু মহব্বতনগরে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বানিয়ে সে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে তার জীবনে ধন-সম্পদ, প্রতিপত্তি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা আসে এবং সে একটি শক্ত শিকড়যুক্ত বৃক্ষের মতোই গ্রামে নিজের আসন স্থায়ী ও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত সতীনের সংসারের পরিস্থিতির বাহ্যিক সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মন্দার সংসারে সুপ্রভা সতীন হয়ে এলেও তাদের মধ্যে কোনো কলহ-বিবাদ বা ঈর্ষা নেই। মন্দা বরং সুপ্রভাকে স্নেহ-যত্নে আগলে রাখে এবং তাকে নিজের ‘নয়নের মণি’ করে রাখে। ফলে তাদের পরিবারে কোনো অশান্তি দেখা যায় না।
‘লালসালু’ উপন্যাসেও মজিদ যখন নিঃসন্তান প্রথমা স্ত্রী রহিমার ঘরে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে অল্পবয়সী জমিলাকে নিয়ে আসে, তখন সেখানেও প্রচলিত সতীনের ঝগড়া-বিবাদ দেখা যায়নি। জমিলা বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় রহিমা তাকে সতীন নয়, বরং নিজের মেয়ের মতো বা স্নেহের চোখে দেখেছে। তার খাওয়া-দাওয়া ও আরামের প্রতি যত্নশীল থেকেছে। সতীনের সম্পর্কের চিরাচরিত হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে দুই স্ত্রীর মধ্যে যে সহমর্মিতা ও স্নেহের ভাব বিরাজ করে, সেই দিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে উপন্যাসের সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের ‘মন্দার’ ও ‘সুপ্রভার’ চেয়ে পাঠ্য উপন্যাসের রহিমা ও জমিলা অধিকতর প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী”—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকের মন্দা ও সুপ্রভা কেবল একটি আদর্শবাদী ও সংঘাতহীন সতীনের সম্পর্কের চিত্রকে ধারণ করে। তাদের চরিত্র গভীর কোনো মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বা সামাজিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং একরৈখিক ও নিতান্তই সাদামাটা।
অপরদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা ও জমিলা রক্তমাংসে গড়া অত্যন্ত বাস্তব ও শক্তিশালী দুটি চরিত্র। রহিমা মজিদের ধর্মভীতি ও আধিপত্যের প্রতীকী বলয়ে বন্দি এক নীরব, পরিশ্রমী নারী হলেও তার ভেতরে একাধারে মাতৃত্বের তীব্র হাহাকার এবং সতীন জমিলার প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে জমিলা চঞ্চল, অবাধ্য ও প্রাণবন্ত এক কিশোরী। সে মজিদের কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন, ভণ্ডামি ও মিথ্যা পবিত্রতার কাছে মাথা নত করতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি মজিদ তাকে মাজারে বেঁধে রেখে এলেও সে মাজারের ওপর অবজ্ঞাভরে থুথু নিক্ষেপ করে এবং নিজের পা দিয়ে মাজারের চাদর স্পর্শ করে মজিদের ক্ষমতার মূল ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। জমিলার এই নীরব অথচ তেজস্বী বিদ্রোহ তাকে উপন্যাসে অসাধারণ এক প্রাণবন্ত ও প্রতীকী চরিত্র করে তুলেছে।
সুতরাং, মানবিক দ্বন্দ্ব, বিদ্রোহ এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের গভীরতার দিক দিয়ে বিচার করলে রহিমা ও জমিলা উদ্দীপকের মন্দা ও সুপ্রভার চেয়ে নিঃসন্দেহে অধিকতর জীবন্ত, গতিশীল ও শক্তিশালী চরিত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও