কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

  1. ক)

    এসটিপি কী?

    (1)
  2. খ)

    পাট পচাতে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-ক এ প্রদর্শিত ফলটির গাছে কীভাবে সার প্রয়োগ করলে অধিক ফলন পাওয়া যাবে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্রে প্রদর্শিত ফলটির ভালো ফলন পেতে কোন ধরনের বংশ বিস্তার উপযুক্ত বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এসটিপি (STP) হলো 'Space Transplanting' বা স্থানান্তরিত চারা রোপণ পদ্ধতি (আখের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত চারা রোপণ প্রযুক্তি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাট দ্রুত ও সঠিকভাবে পচানোর জন্য পানিতে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। পাট পচানোর কাজটি মূলত ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে সম্পন্ন হয়। ইউরিয়া সারে থাকা নাইট্রোজেন এই ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য ও পুষ্টি হিসেবে কাজ করে, ফলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পাট দ্রুত পচে এবং আঁশের রঙ ও গুণগত মান ভালো থাকে। সাধারণত প্রতি ১০০ কেজি কাঁচা পাটের জন্য প্রায় ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্র-ক এ প্রদর্শিত ফলটি হলো ডালিম (বা বেদানা)। ডালিম গাছে অধিক ফলন পেতে সঠিক মাত্রায় এবং সুষম পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ করা আবশ্যক।

    ১. সারের প্রকারভেদ ও প্রয়োগ সময়: গাছের বয়স অনুযায়ী গোবর বা কম্পোস্ট, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং দস্তা সার প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণত বছরে দুই কিস্তিতে সার দেওয়া ভালো—প্রথম কিস্তি বর্ষার শুরুতে (মে-জুন) এবং দ্বিতীয় কিস্তি বর্ষার শেষে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)।
    ২. প্রয়োগ পদ্ধতি: গাছের গোড়ার ঠিক কাছে সার না দিয়ে কাণ্ড থেকে কিছুটা দূরে, গাছের ছাউনির নিচে মাটির উপরিভাগে বৃত্তাকারে সার ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। সার প্রয়োগের পর মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে হালকা সেচ দিতে হবে।

    এভাবে নিয়মিত সুষম সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা করলে গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে, ফুল ও ফলের ঝরে পড়া রোধ হয় এবং ফলন আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রে প্রদর্শিত ফলটি হলো ডালিম। ডালিমের ভালো ফলন ও গুণগত মান বজায় রাখার জন্য অঙ্গজ বা কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতি (বিশেষ করে গুটি কলম বা শাখা কলম) সবচেয়ে উপযুক্ত বলে আমি মনে করি।

    এর কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. মাতৃগুণের স্থায়িত্ব: বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলে কাঙ্ক্ষিত জাতের মাতৃগুণ হুবহু বজায় থাকে না, কিন্তু গুটি কলম বা দাবা কলমের মাধ্যমে উৎপাদিত গাছে মাতৃগাছের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
    ২. দ্রুত ফলন লাভ: বীজ থেকে তৈরি গাছে ফুল ও ফল আসতে ৪-৫ বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। পক্ষান্তরে, কলমের চারা রোপণ করলে ১-২ বছরের মধ্যেই প্রচুর ফুল ও ফল পাওয়া যায়।
    ৩. ফলের আকার ও মিষ্টতা: কলম পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফলের আকার বড় হয়, রসাল ও মিষ্টি হয় এবং বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়।
    ৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: উপযুক্ত মাতৃগাছ নির্বাচন করে কলম করলে সুস্থ ও সবল চারা তৈরি হয়।

    সুতরাং, ফলন দ্রুত নিশ্চিত করতে এবং উন্নত মানের ফল পেতে ডালিমের ক্ষেত্রে গুটি কলম (Air layering) বা কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশবিস্তার করাই সর্বোত্তম পন্থা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন