অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. জাকির বৃত্তি নিয়ে ইউরোপে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যান। তিনি সেখানে দেখতে পান যে, শীতপ্রধান ইউরোপে জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং গড় আয়ুষ্কাল বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে খাদ্যাভ্যাস, আবহাওয়া, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি কারণে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বেশি এবং জীবনযাত্রার মান নিম্ন। বর্তমানে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস করেছে। উপরন্তু কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এতে মাথাপিছু আয় বাড়ছে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও হচ্ছে।

  1. ক)

    কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের সূত্রটি লিখ।

    (1)
  2. খ)

    শিক্ষা কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে সরকার আরও কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিবিদ এডউইন ক্যানানের কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের সূত্রটি ডাল্টন কর্তৃক এভাবে প্রকাশ করা হয়: M=A−OOM = \frac{A - O}{O}; যেখানে MM = অসামঞ্জস্যের মাত্রা (Degree of maladjustment), AA = প্রকৃত জনসংখ্যা (Actual population), এবং OO = কাম্য জনসংখ্যা (Optimum population)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিক্ষা মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা, জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করে। শিক্ষার মাধ্যমে একজন সাধারণ নাগরিক উৎপাদনশীল ও কারিগরি দক্ষতায় পারদর্শী জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে খাদ্যাভ্যাস, জলবায়ু/আবহাওয়া এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ও প্রাকৃতিক কারণসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রথমত, বাংলাদেশ উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশ হওয়ায় এ অঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা তুলনামূলক কম বয়সেই প্রজননক্ষমতা বা সাবালকত্ব লাভ করে, যা জন্মহার বাড়াতে ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয়ত, পুষ্টিকর বা নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস শারীরিক বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলে। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সামাজিক কুসংস্কার ও দারিদ্র্যজনিত বাল্যবিবাহ। অল্প বয়সে বিবাহ হওয়ার ফলে মেয়েদের প্রজননকাল দীর্ঘায়িত হয়, যার প্রত্যক্ষ পরিণতি হিসেবে জন্মহার দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দেশে উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা বজায় থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পরিবার পরিকল্পনা জোরদারকরণ এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে সরকার আরও বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে:

    ১. নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ও ক্ষমতায়ন: নারীদের উচ্চশিক্ষিত এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং জন্মহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
    ২. সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি: দারিদ্র্য দূরীকরণে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে হবে। পুত্রসন্তান লাভের প্রত্যাশা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে।
    ৩. স্বাস্থ্যসেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সহজলভ্যতা: বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলে আধুনিক প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা উপকরণ সহজে ও বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
    ৪. আইন প্রয়োগে কঠোরতা: বাল্যবিবাহ এবং যৌতুক প্রতিরোধ আইনের শতভাগ কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
    ৫. কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: কৃষি খাতের ওপর চাপ কমিয়ে উৎপাদনশীল শিল্প খাতে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে জীবনযাত্রার মান বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

    পরিশেষে, সরকার যদি জনসংখ্যাকে সমস্যা না ভেবে সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সমন্বয় করে জনশক্তিতে রূপান্তর এবং একই সাথে প্রতিরোধমূলক নীতি অব্যাহত রাখে, তবে তা দেশের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন