বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মাদার তেরেসা আশৈশব স্বপ্ন দেখেন মানবসেবার। একসময় যোগ দেন খ্রিষ্টান মিশনারির সঙ্গে। মানুষকে আরও কাছে থেকে সেবা দেয়ার লক্ষ্যে তিনি সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন মিশনারিজ অব চ্যারিটি। তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আরো অনেকেই এগিয়ে আসেন এ মহান কাজে। এক সময় এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন নোবেল পুরস্কার। সারাজীবনে তাঁর সবটুকু উপার্জনই বিলিয়ে দেন মানবের কল্যাণে। যে মানুষ হবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সাবলম্বী মানুষ। এজন্যই তাঁর চ্যারিটি গতানুগতিক কোন সেবা-সংস্থা নয়।
- ক)(1)
আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানবকল্যাণ কথাটা অনেক খানি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
- খ)(2)
” রাষ্ট জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক” - উক্তিটি দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে ?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ প্রবন্ধের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
“তাঁর চ্যারিটি গতানুগতিক কোনো সেবা সংস্থা নয়”—মানব কল্যাণ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানবকল্যাণ কথাটা অনেকখানি 'দান-খয়রাত' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, রাষ্ট্র কেবল কতগুলো ভৌগোলিক সীমানা বা শাসনব্যবস্থা নয়, বরং তা সমগ্র জাতির সম্মিলিত সত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।
প্রাবন্ধিক আবুল ফজলের মতে, একটি রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকল মানুষের সম্মিলিত কল্যাণ ও মানবিক বিকাশ তখনই সম্ভব, যখন রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করে। যৌথ জীবন ও যৌথ চেতনা বলতে পারস্পরিক দায়িত্বশীলতা ও সহমর্মিতাবোধকে বোঝায়। রাষ্ট্র ব্যক্তিমানুষকে বিচ্ছিন্ন না রেখে তাদের ঐক্যবদ্ধ চেতনাকে ধারণ করে বৃহত্তর কল্যাণের পথ প্রশস্ত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের প্রকৃত মানবকল্যাণ—অর্থাৎ মানুষকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার মহৎ আদর্শের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, উপর থেকে করুণাবশত কিছু অর্থ বা দান-খয়রাত করাই প্রকৃত মানবকল্যাণ নয়। এতে গ্রহীতার মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। আসল কল্যাণ সাধিত হয় তখন, যখন মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উপযোগী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করা যায়।
উদ্দীপকের মাদার তেরেসাও মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি সাধারণ দান-দক্ষিণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন যাতে অবহেলিত মানুষ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচতে পারে। প্রবন্ধের প্রকৃত মানবকল্যাণের এই মূল সুরটিই মাদার তেরেসার কর্মধারার মাধ্যমে উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“তাঁর চ্যারিটি গতানুগতিক কোনো সেবা সংস্থা নয়”—মন্তব্যটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল ভাবনার আলোকে অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল গতানুগতিক দান-খয়রাত বা লোকদেখানো সেবামূলক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নিছক সাময়িক সাহায্য বা কৃপা প্রদর্শন মানুষের পরনির্ভরশীলতা বাড়ায় এবং তার ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে। প্রকৃত মানবকল্যাণের লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সুপ্ত মানবিক সম্ভাবনার বিকাশ ঘটিয়ে তাকে স্বাবলম্বী, মুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি' নিছক সাহায্য বিতরণের গতানুগতিক প্রতিষ্ঠান নয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের অন্ত্যজ, পরিত্যক্ত ও অসহায় মানুষকে ভালোবাসা ও সেবার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা, যাতে তারা সমাজে মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারে। তিনি মানুষের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন।
অতএব, প্রবন্ধের বক্তব্য অনুসারে যা কেবল লোকদেখানো দান নয় বরং মানুষের আত্মিক ও সামাজিক মুক্তির দিশারি, মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠানটি ছিল ঠিক তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, উক্তিটি সম্পূর্ণভাবে সংগতিপূর্ণ ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও