বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) 'ফেসবুকের সুফল ও কুফল' বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।অথবা,(খ) নিচের উদ্দীপক অনুসরণে একটি খুদেগল্প লেখো: পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে রাজু ভাবে, কালের প্রবহমান স্রোত জীবনকে আজ কতদূরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও...
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) এর উত্তর:
'ফেসবুকের সুফল ও কুফল' বিষয়ে দুই বন্ধু তন্ময় ও সাজিদের মধ্যে সংলাপ:
তন্ময়: হ্যালো সাজিদ! কী খবর? তোমাকে তো আজকাল ফেসবুক ছাড়া কোথাও দেখাই যায় না।
সাজিদ: আরে তন্ময়, ভালো আছ? আসলে ফেসবুক তো এখন আমাদের জীবনের অন্যতম প্রধান অংশ হয়ে গেছে। দেশ-বিদেশের খবর থেকে শুরু করে পড়াশোনার তথ্য—সবই তো এখানে পাওয়া যায়।
তন্ময়: তা ঠিক বলেছ। ফেসবুকের সুফল অনেক। আত্মীয়-স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের এক চমৎকার মাধ্যম এটি। আবার বিভিন্ন শিক্ষণীয় গ্রুপে যুক্ত হয়ে আমরা পড়াশোনার নানা তথ্যও শেয়ার করতে পারছি।
সাজিদ: একদম সত্য। কিন্তু জানো, আজকাল এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আমাকে মাঝে মাঝে চিন্তায় ফেলে দেয়। অনেকেই কাজের চেয়ে বেশি সময় অপচয় করছে এতে।
তন্ময়: ঠিক ধরেছ সাজিদ। এটাই তো এর বড় কুফল। একটানা ফেসবুকে স্ক্রোল করার কারণে তরুণ সমাজের পড়ালেখার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। তাছাড়া এখানে বিভিন্ন ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়িয়ে সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে।
সাজিদ: তুমি খুব প্রাসঙ্গিক কথা বলেছ। অনেকে সাইবার ক্রাইম ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের শিকারও হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি আমাদের বাস্তব সামাজিক সম্পর্কগুলোকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।
তন্ময়: অতএব বুঝতে পারছ, প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়, নির্ভর করে আমরা এটি কীভাবে ব্যবহার করছি। সচেতনভাবে সুফল গ্রহণ আর কুফল বর্জন করাই হলো আসল সমাধান।
সাজিদ: চমৎকার বলেছ তন্ময়। এখন থেকে আমি এর সচেতন ব্যবহারে আরও যত্নবান হব। চল, ক্লাসের সময় হয়ে গেল।
তন্ময়: হ্যাঁ, চল যাই।
অথবা,
(খ) এর উত্তর:
স্মৃতির জলছবি
পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে রাজু ভাবে, কালের প্রবহমান স্রোত জীবনকে আজ কতদূরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও তার হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে রাখে। চারপাশের এই সুউচ্চ অট্টালিকা, গাড়ির তীব্র হর্ন আর ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরী তাকে ক্লান্ত করে তোলে। রাজুর মন চলে যায় বহু দূরের এক শান্ত, সবুজ পল্লীতে—তার প্রিয় গ্রাম রূপপুর।
গ্রামের সেই সোনালি দিনগুলোর কথা আজও স্পষ্ট ভাসে চোখের সামনে। বর্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভিজে কদম ফুল তোলা, বন্ধুদের নিয়ে কাদা-পানিতে মেতে ওঠা আর নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটা—কত অনাবিল আনন্দ ছিল সেসব দিনে! শীতের ভোরে কাঁচা খেজুরের মিষ্টি রস খাওয়া আর বৈশাখের তপ্ত দুপুরে কালবৈশাখীর ঝড়ে আম কুড়ানোর উল্লাস আজ আর এই কংক্রিটের শহরে কোথায় পাওয়া যাবে?
জীবিকার তাগিদে আজ সে নগরজীবনে বন্দি। ক্যারিয়ার আর দায়িত্বের ভিড়ে শৈশবের সেই সহজ-সরল নিষ্পাপ মনটাকে মানুষ কখন যেন হারিয়ে ফেলে। পেছন থেকে হঠাৎ এক পথশিশুর মিষ্টি হাসি রাজুর ঘোর ভেঙে দিল। রাজু আনমনে স্মিত হাসল। কালের স্রোত হয়তো বয়স আর অবস্থানকে দূরে ঠেলে দেয়, কিন্তু মনের ভেতরে বেঁচে থাকা অমলিন শৈশব স্মৃতি মানুষের বেঁচে থাকার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও