হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রজিত বিশ্বাস দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পরিবারের ভরণ- পোষণের জন্য তাকে অল্প বয়সে অপরের দোকানে ম্যানেজারি করতে হয়। প্রত্যেক দিন তার হাতে প্রচুর টাকা-পয়সার লেনদেন হয়। মালিক সরল বিশ্বাসে তাকে ক্যাশের দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু অভাব থাকলেও সে কোনোদিন বিশ্বাসের অমর্যাদা করেননি।
- ক)(1)
কাঠুরিয়া কোথায় কাঠ কাটতে গিয়েছিলেন?
- খ)(2)
জলদেবতা কার সততায় মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং কেন?
- গ)(3)
অষ্টাঙ্গ প্রণাম বলতে কী বোঝায়?
- ঘ)(4)
'সততাই সর্বোকৃষ্ট পন্থা/নীতি।' এই উক্তিটি প্রজিত বিশ্বাসের জীবনে কতখানি প্রতিফলিত হয়েছে? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কাঠুরিয়া নদীর পাশের বনে কাঠ কাটতে গিয়েছিলেন।
- খ)
জলদেবতা বা জলদেবী গরিব কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। কাঠুরিয়ার কুঠার নদীতে পড়ে গেলে জলদেবী সোনা ও রুপার কুঠার দেখান। লোভ না করে কাঠুরিয়া বলেন, এগুলো তাঁর নয়। যখন লোহার কুঠার দেখানো হলো, তখন তিনি সেটিকেই নিজের বলে চিনলেন। অভাবের মধ্যেও তাঁর এই সততা দেখে জলদেবী খুশি হয়ে তাঁকে তিনটি কুঠারই দিলেন।
- গ)
যে প্রণামে জানু, পদ, হস্ত, বক্ষ, বুদ্ধি, শির, বাক্য ও দৃষ্টি—এই আটটি অঙ্গ ব্যবহার করা হয়, তাকে অষ্টাঙ্গ বা সাষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে।
প্রণাম বা নমস্কার শিষ্টাচারের অন্যতম প্রকাশ। মাতা-পিতা ও গুরুজনদের প্রণাম জানানোর মধ্য দিয়ে ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। প্রণাম প্রধানত দুই প্রকার: পঞ্চাঙ্গ প্রণাম ও অষ্টাঙ্গ প্রণাম। পঞ্চাঙ্গ প্রণামে বাহুদ্বয়, জানুদ্বয়, মস্তক, বক্ষস্থল ও দর্শনেন্দ্রিয় যুক্ত করে অবনত হতে হয়। অষ্টাঙ্গ প্রণাম তার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ। এতে শরীরের আটটি অঙ্গ ছাড়াও মন বা বুদ্ধি এবং বাক্য প্রণামে নিয়োজিত থাকে। অর্থাৎ শরীর, মন ও বাক্য সব দিয়ে ভক্তি নিবেদন করা হয়।
মন্দির বা দেব-দেবীর সামনে এবং পরম শ্রদ্ধেয় গুরুজনদের সামনে এ ধরনের প্রণাম করা হয়।
সুতরাং, দেহ, মন ও বাক্য দিয়ে সর্বাঙ্গীণ শ্রদ্ধা জানানোই অষ্টাঙ্গ প্রণামের মর্ম।
- ঘ)
“সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা”—এ উক্তিটি প্রজিত বিশ্বাসের জীবনে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, মিথ্যার আশ্রয় নিলে ফল ভালো হয় না, তাই সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা। গরিব কাঠুরিয়ার সততার উপাখ্যান এর দৃষ্টান্ত।
১. অভাবেও সততা: প্রজিত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রতিদিন তার হাতে প্রচুর টাকা-পয়সার লেনদেন হয়। চাইলে সে অসৎ উপায়ে লাভবান হতে পারত। কিন্তু সে কখনো বিশ্বাসের অমর্যাদা করেনি। গরিব কাঠুরিয়াও সোনার কুঠার দেখে লোভ করেননি।
২. বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন: মালিক সরল বিশ্বাসে প্রজিতকে ক্যাশের দায়িত্ব দিয়েছেন। তার সততাই তাকে মালিকের আস্থাভাজন করেছে। কাঠুরিয়াও সততার কারণে জলদেবীর আস্থা অর্জন করেন।
৩. ধর্মপথে থাকার ফল: সততা ধর্মের অঙ্গ। প্রজিতের সততার ফলে ভবিষ্যতে সে আরও দায়িত্ব ও সম্মান পেতে পারে। কাঠুরিয়া দরিদ্রতা কাটিয়ে ধনী হন। পরের অর্থ আত্মসাৎ অধর্ম, তা থেকে বিরত থেকে প্রজিত ধর্মপথে থেকেছে।
৪. সামাজিক প্রভাব: তার সততা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে, সমাজে সুনাম ও বিশ্বাসের পরিবেশ গড়ে তোলে।সুতরাং, প্রজিত বিশ্বাসের জীবনে সততা তাকে সম্মান ও আস্থা এনে দিয়েছে। তাই ‘সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা’ উক্তিটি তার জীবনে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও