ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
শাবাব বিকেলবেলা দাদুর সাথে বারান্দায় বসে গল্প করছিল। সে বলল, "দাদু, এখন তো শীতকাল তারপরও গরম লাগছে"। দাদু বললেন, 'বায়ুমণ্ডলে এখন প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গ্যাসের বৃদ্ধির ফলে একটি প্রতিক্রিয়া ঘটছে"।
- ক)(1)
আবহাওয়া কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশের 'উত্তরের তুলনায় দক্ষিণের জলবায়ু আরামদায়ক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বায়ুমণ্ডলে ঘটা কোন প্রতিক্রিয়াটির কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশের উপর উক্ত প্রতিক্রিয়াটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- খ)
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। সমুদ্রের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা উত্তরাঞ্চল বা অভ্যন্তরভাগের মতো বেশি বাড়ে না। পাঠ্যবই অনুযায়ী এপ্রিলে সমুদ্র উপকূল থেকে দেশের অভ্যন্তরের দিকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। আবার শীতকালে উপকূল থেকে উত্তর দিকে তাপমাত্রা কমতে থাকে, উত্তরে দিনাজপুরে তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমেছিল। অর্থাৎ দক্ষিণে গরম ও শীত দুটোই উত্তরের চেয়ে মৃদু, তাই দক্ষিণের জলবায়ু আরামদায়ক।
- গ)
দাদু গ্রিনহাউস প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া (Greenhouse Effect)-এর কথা বলেছেন, যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে।
বায়ুমণ্ডল গ্রিনহাউসের কাচের ছাদের মতো কাজ করে। কাঠ-কয়লা পোড়ানো, গাছ কাটা ও কলকারখানার ধোঁয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ও ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ছে। এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে ক্রমশ পুরু স্তর তৈরি করে, ফলে পৃথিবী থেকে ছেড়ে দেওয়া তাপ আর ফিরে যেতে পারে না। তাপ শোষণ বেড়ে উষ্ণতা বাড়তে থাকে। উদ্দীপকে শাবাব শীতকালেও গরম অনুভব করছে, যা এই উষ্ণতা বৃদ্ধিরই ফল।
- ঘ)
গ্রিনহাউস প্রভাবের ফলে সৃষ্ট বিশ্ব উষ্ণায়ন পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
১. তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তন: বিজ্ঞানীদের হিসাবে একবিংশ শতকের শেষে গড় তাপমাত্রা আরও প্রায় ২.৫° থেকে ৫.৫° সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এতে ঋতুর স্বাভাবিক আচরণ বদলে যায়, যেমন শীতে গরম হাওয়া।
২. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: পাহাড়ের বরফ ও মেরু অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ উঁচু হয়। বাংলাদেশসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি: অধিক বৃষ্টিপাত, ব্যাপক বন্যা, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও খরা বাড়ে।
৪. কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনে প্রভাব: ফসল ডুবে যায়, সুপেয় পানি লবণাক্ত হয়, বনাঞ্চল ধ্বংস হয় ও বন্যপ্রাণী কমে যায়। অনেক মানুষ জলবায়ু শরণার্থী হয়ে পড়ে।সুতরাং, গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে, তাই গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো ও বৃক্ষরোপণ জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও