যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
উদাহরণ-১: আহ্নিক গতির কারণে দিবা-রাত্রি সংঘটিত হয়।
উদাহরণ-২ : নৌকা চলে নদীর স্রোত, বাতাসের গতিবেগ, মাঝির দক্ষতা এবং পালের ব্যবহারের সমন্বয় দ্বারা।
উদাহরণ-৩: পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে ভালো শস্য হয়, ভালো শস্য হলে দেশের উন্নতি বৃদ্ধি পায়।
- ক)(1)
ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
সার্বিক নিয়মকে কেন ব্যাখ্যা করা যায় না?
- গ)(3)
উদাহরণ-১ এ কোন ধরনের ব্যাখ্যার ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদাহরণ-২ ও ৩, উদাহরণ-১ এর আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দুর্বোধ্য, অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়কে স্পষ্ট, বোধগম্য ও সহজভাবে প্রকাশ করাই হলো ব্যাখ্যা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক ব্যাখ্যার অন্যতম সীমা হলো সর্বোচ্চ বা পরম সার্বিক নিয়মকে ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ ব্যাখ্যার একটি মূল প্রক্রিয়া হলো কোনো বিশেষ নিয়ম বা ঘটনাকে অপেক্ষাকৃত উচ্চতর বা অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা। কিন্তু প্রকৃতির সর্বোচ্চ বা পরম সার্বিক নিয়মের চেয়ে অধিক ব্যাপক কোনো নিয়ম নেই, যার অধীনে এনে তাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তাই সার্বিক নিয়মের ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদাহরণ-১-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম রূপ 'অন্তর্ভুক্তি' (Subsumption) পদ্ধতির ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যখন কোনো কম ব্যাপক নিয়মকে অপেক্ষাকৃত অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। উদ্দীপকের উদাহরণ-১ এ বলা হয়েছে 'আহ্নিক গতির কারণে দিবা-রাত্রি সংঘটিত হয়'। এখানে দিবা-রাত্রির পর্যায়ক্রমিক আবর্তন নামক সংকীর্ণ নিয়মটিকে আহ্নিক গতির মতো অধিক ব্যাপক একটি নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্তর্গত অন্তর্ভুক্তি পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদাহরণ-২ ও ৩ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অপর দুটি রূপ বা প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা উদাহরণ-১ (অন্তর্ভুক্তি)-এর মতোই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিভিন্ন রূপের সাথে সম্পর্কিত।
যৌক্তিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি প্রধান রূপ রয়েছে: ১. বিশ্লেষণ (Analysis), ২. অন্তর্ভুক্তি (Subsumption) এবং ৩. ব্যবধান দূরীকরণ বা শৃঙ্খলায়ন (Concatenation of laws)।
উদাহরণ-১ এ 'অন্তর্ভুক্তি' পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়, যেখানে একটি ঘটনা বা নিম্নতর নিয়মকে বৃহত্তর নিয়ম হিসেবে আহ্নিক গতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদাহরণ-২ এ বলা হয়েছে, 'নৌকা চলে নদীর স্রোত, বাতাসের গতিবেগ, মাঝির দক্ষতা এবং পালের ব্যবহারের সমন্বয় দ্বারা।' এটি মূলত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' রূপটিকে প্রকাশ করে। বিশ্লেষণের নিয়ম অনুসারে কোনো জটিল কার্য বা ঘটনাকে তার বিভিন্ন মিশ্র ও পৃথক উপাদান বা কারণসমূহে বিভক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়। এখানে নৌকা চলা নামক মিশ্র কার্যটিকে বিভিন্ন কারণের যৌথ ক্রিয়া হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
উদাহরণ-৩ এ বলা হয়েছে, 'পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে ভালো শস্য হয়, ভালো শস্য হলে দেশের উন্নতি বৃদ্ধি পায়।' এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'ব্যবধান দূরীকরণ বা শৃঙ্খলায়ন' রূপকে নির্দেশ করে। যখন দুটি দূরবর্তী ঘটনার মধ্যবর্তী সম্পর্ক অস্পষ্ট থাকে, তখন তাদের মাঝখানের ধারাবাহিক কারণগুলো আবিষ্কার করে মধ্যবর্তী ব্যবধান দূর করার মাধ্যমে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা শৃঙ্খলায়ন। এখানে বৃষ্টি হওয়া এবং দেশের উন্নতির মাঝে মধ্যবর্তী কার্যকারণ শৃঙ্খলা (ভালো শস্য হওয়া) যুক্ত করে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
অতএব, উদাহরণ-১ যেমন অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তুলে ধরে, তেমনি উদাহরণ-২ ও ৩ যথাক্রমে বিশ্লেষণ ও ব্যবধান দূরীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সামগ্রিক রূপকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও