গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
৪৫ বছর বয়সী মিসেস রহমান কোনো কাজ করেন না। তার খাওয়া ঘুম কোনোটাই ঠিক মত হয় না। ইদানিং তার ওজন অনেক বেড়ে গেছে এবং ক্লান্তবোধ করছেন। বর্তমানে তার স্বামী আঃ রহমান অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠেন। আবার তার প্রস্রাবেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে তারা ডাক্তারের কাছে যান। বিভিন্ন পরীক্ষার পর ডাক্তার বলেন, তার স্ত্রীর শরীরে বিপাকজনিত ত্রুটি ঘটেছে। তাই নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে এবং স্বামীকে মিষ্টিজাতীয় খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
সুস্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি কী?
- খ)(2)
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মিসেস রহমান যে রোগে ভুগছেন তা বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
রহমান সাহেবের জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবন পদ্ধতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে তুমি মনে করো? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সুস্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন।
- খ)
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বলতে সময়মতো, পরিমিত পরিমাণে ও সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাসকে বোঝায়।
এতে প্রতিদিন বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠী থেকে খাবার নেওয়া হয়, যেমন শাকসবজি, ফলমূল, মাছ-মাংস, ডিম, দুধ ও ডাল। অতিরিক্ত তেল, চিনি, লবণ ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাও এর অংশ। এই অভ্যাস দেহকে সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ করে।
- গ)
মিসেস রহমান কোনো কাজ করেন না, খাওয়া ও ঘুম অনিয়মিত, ওজন অনেক বেড়ে গেছে এবং তিনি ক্লান্তবোধ করেন। এসব লক্ষণ স্থূলতার (Obesity)।
বিশ্লেষণ: দেহে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শক্তি গ্রহণ করে তা ব্যয় না করলে বাড়তি শক্তি চর্বি হিসেবে জমা হয়। শারীরিক পরিশ্রম না করা, অনিয়মিত খাওয়া ও ঘুম এবং বিপাকের ত্রুটি এর কারণ। স্থূলতা থেকে ক্লান্তি, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। খাদ্যে চর্বি ও শর্করা কমিয়ে, নিয়মিত ব্যায়াম ও সময়মতো ঘুমের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- ঘ)
উদ্দীপকে আঃ রহমান অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠেন, তার প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং ডাক্তার তাকে মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে নিষেধ করেছেন। এসব লক্ষণ ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়। আমি মনে করি, তার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবন পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. নিয়ন্ত্রিত খাদ্য: নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিত খাবার খেলে এবং মিষ্টি ও অতিরিক্ত শর্করা এড়ালে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. নিয়মিত ব্যায়াম: হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম দেহে গ্লুকোজের ব্যবহার বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: নিয়মিত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি দেহের বিপাক স্বাভাবিক রাখে।
৪. জটিলতা প্রতিরোধ: নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিস থেকে হৃদরোগ, কিডনি ও চোখের জটিলতার ঝুঁকি কমে।সুতরাং, রহমান সাহেবের সুস্থ থাকার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবন পদ্ধতি অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও