হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
একদিন রীমা তার মায়ের সাথে মন্দিরে যায়। সেখানে সে দেখতে পায়, ১০/১২ জন লোক বিভিন্ন সুরে, ছন্দের তালে তালে কৃষ্ণনাম ও রামনাম করছে। অনেক দূর-দুরান্ত থেকে ভক্তরা এই নামকীর্তন শ্রবণের জন্য একত্রিত হয়েছে। সে তখন বুঝতে পারল, ধর্মাচারের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
- ক)(1)
'নবান্ন' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
রথযাত্রার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রীমার দেখা ধর্মানুষ্ঠানটির সাথে পাঠ্যপুস্তকের অনুষ্ঠানের যে সাদৃশ্য রয়েছে তা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
ধর্মাচারের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়- উদ্দীপকের উক্তিটির সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'নবান্ন' শব্দের অর্থ নতুন ভাত (নব + অন্ন)।
- খ)
রথযাত্রা হিন্দুদের অন্যতম প্রধান ধর্মানুষ্ঠান। এটি এখন সর্বজনীন উৎসব। এর গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো।
১. রথযাত্রায় ভগবান যেন ভক্তের কাছে নেমে আসেন। ভক্তরা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ রশি দিয়ে টেনে নিয়ে যান।
২. সবাই একত্রে রথের রশি ধরে, সেখানে জাতি-বর্ণের বিভেদ থাকে না। তাই রথযাত্রা সাম্যের শিক্ষা দেয়।
৩. এ উপলক্ষে নয় দিনব্যাপী মেলা বসে। ফলে এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। - গ)
উদ্দীপকে রীমার দেখা ধর্মানুষ্ঠানটি পাঠ্যপুস্তকের নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
নামযজ্ঞ একটি ধর্মানুষ্ঠান, যার মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের পূজা করা হয়। এতে বিভিন্ন সুরে, ছন্দে ও তালে কৃষ্ণনাম ও রামনাম কীর্তন করা হয়। স্থান, সময় ও আয়োজনের পরিধিভেদে অনুষ্ঠানটি কয়েক প্রহরব্যাপী হয়। তিন ঘণ্টায় এক প্রহর ধরা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য মন্দির বা নামযজ্ঞের স্থানটি পবিত্র রাখা হয় এবং দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। হিন্দুরা বিশ্বাস করে, শ্রীহরির নাম নিলে বা শুনলে পুণ্য লাভ হয় এবং দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে।
উদ্দীপকে রীমা মন্দিরে দেখে, ১০/১২ জন লোক বিভিন্ন সুরে ও ছন্দের তালে তালে কৃষ্ণনাম ও রামনাম করছে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা নামকীর্তন শুনতে একত্রিত হয়েছে। এই সব বৈশিষ্ট্য পাঠ্যবইয়ের নামযজ্ঞের বর্ণনার সাথে মিলে যায়। কৃষ্ণ ও রামের নামকীর্তন, বিভিন্ন সুর-তাল-ছন্দ এবং দূর থেকে ভক্তের সমাগম, সবই নামযজ্ঞের বৈশিষ্ট্য।
অতএব রীমার দেখা অনুষ্ঠানটি নামযজ্ঞ।
- ঘ)
উদ্দীপকের উক্তিটি, অর্থাৎ ধর্মাচারের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়, পাঠ্যবইয়ের আলোকে যথার্থ। আমি এর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছি।
যে সমস্ত আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য চর্চিত হয়, সেগুলোই ধর্মাচার। ধর্মাচার ও ধর্মানুষ্ঠান মানুষকে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী করে এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ধর্মাচারের মাধ্যমে সমাজ ও পারিবারিক জীবনের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
১. মিলনমেলা সৃষ্টি : নামযজ্ঞের মতো অনুষ্ঠান মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। উদ্দীপকে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা একত্র হয়েছে। এতে পরিচিত-অপরিচিত সবার মধ্যে যোগাযোগ ও আত্মীয়তা গড়ে ওঠে।
২. ভেদাভেদ দূর হওয়া : অনুষ্ঠানে সবাই ভেদাভেদ ভুলে একাত্ম হয়ে যায়। রথযাত্রায়ও সবাই একত্রে রশি টানে এবং জাতি-বর্ণের বিভেদ থাকে না। এতে সামাজিক সংহতি বাড়ে।
৩. পারিবারিক বন্ধন : রীমা মায়ের সাথে মন্দিরে গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা একসাথে ধর্মানুষ্ঠানে অংশ নিলে তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্পর্ক গভীর হয়। ছোটরা বড়দের কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা পায়।
৪. নৈতিক গুণের বিকাশ : ধর্মাচারের মাধ্যমে ভক্তি, সহনশীলতা ও সহমর্মিতা তৈরি হয়। এসব গুণ পারিবারিক ও সামাজিক শান্তির ভিত্তি।
অতএব ধর্মাচার ও ধর্মানুষ্ঠান ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনকে সুন্দর ও ঐক্যবদ্ধ করে, যা উদ্দীপকের উক্তিকে সমর্থন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও