ইসলাম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ : রাশেদ সাহেব ক্ষুধা ও পিপাসায় তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালন করে।
দৃশ্যকল্প-২ : হাসান সাহেব একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি এ বছর রমজান মাসে গ্রামের কিছু গরিব লোকের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন।
দৃশ্যকল্প-৩ : সরোয়ার সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি তার সমুদয় সম্পদ হিসাব করে নির্দিষ্ট হারে যে পরিমাণ টাকা হয় তা দিয়ে কয়েকটি সেলাই মেশিন কিনে গ্রামের কয়েকজন গরিব ও অসহায় মহিলাকে প্রদান করেন।
- ক)(1)
সাওম কী?
- খ)(2)
ইসলামে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্ক কেমন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
রাশেদ সাহেবের আদায়কৃত ইবাদতটি চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
হাসান সাহেব ও সরোয়ার সাহেবের পালনকৃত ইবাদতটি চিহ্নিত করে ইবাদতটি পালনের ক্ষেত্রে কার পদ্ধতিটি বেশি উপযোগী তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়তসহ পানাহার, যৌনসম্ভোগ ও যাবতীয় পাপকাজ থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে।
- খ)
ইসলামে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক ভাই-ভাইয়ের মতো। মালিক শ্রমিকের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখাবেন এবং শ্রমিক নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করবে।
রাসূল (স) বলেছেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো। মালিক শ্রমিককে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ দেবেন না এবং নিজে যা খাবেন ও পরবেন, শ্রমিককেও তা-ই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এ সম্পর্ক ন্যায় ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। - গ)
রাশেদ সাহেব ক্ষুধা ও পিপাসার তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করে যে ইবাদত পালন করেন, তা হলো সাওম (রোযা)।
সাওম ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি। রমযান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমানের জন্য ফরয। কুরআনে বলা হয়েছে, "হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।" সাওম মানুষকে আত্মসংযম, ধৈর্য ও তাকওয়া শেখায়।
- ঘ)
হাসান সাহেব রমজান মাসে গরিবদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করে সাদাকা (নফল দান) পালন করেছেন; আর সরোয়ার সাহেব সম্পদের হিসাব করে নির্দিষ্ট হারে অর্থ বের করে দিয়েছেন, যা যাকাত।
দুজনের পদ্ধতির মধ্যে সরোয়ার সাহেবের পদ্ধতি বেশি উপযোগী। কারণ—
১. যাকাত ফরয ইবাদত, নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ২.৫%) তা আদায় করতে হয়। এতে ধনীর ওপর গরিবের অধিকার নিশ্চিত হয়।
২. তিনি টাকা বিলিয়ে না দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছেন। এতে গরিব নারীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।
৩. এ পদ্ধতিতে দারিদ্র্য বিমোচন ও সম্পদের সুষম বণ্টন হয়, যা সাময়িক বিতরণের মাধ্যমে হয় না।সুতরাং, সাদাকাও উত্তম কাজ হলেও স্থায়ী ফল ও ফরয আদায়ের বিবেচনায় সরোয়ার সাহেবের পদ্ধতি অধিক উপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও