যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যান্ত-১: সোহেল হয় মরণশীল। টমাস হয় মরণশীল। রনি হয় মরণশীল। অতএব, সকল মানুষ হয় মরণশীল।
দৃশ্যান্ত-২: এযাবৎ কমল বিভিন্ন জেলায় এবং উপজেলায় ঘুরে কালো ছাড়া অন্য কোনো রঙ এর কাক দেখতে পায়নি। সুতরাং কমলের ধারণা “সকল কাক হয় কালো”।
- ক)(1)
প্রকৃত আরোহ কত প্রকার?
- খ)(2)
আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-১ এ কোন ধরনের আরোহের উল্লেখ রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এর সম্পর্ক মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃত আরোহ ৩ প্রকার: (১) বৈজ্ঞানিক আরোহ, (২) অবৈজ্ঞানিক আরোহ এবং (৩) সাদৃশ্যানুমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জানা থেকে অজানায়, প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষে এবং বিশেষ সত্য থেকে সার্বিক সত্যে উত্তরণকে আরোহমূলক লম্ফ (Inductive Leap) বলা হয়। যুক্তিবিদ মিল ও বেইনের মতে, এই লম্ফের মাধ্যমেই নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয়। আরোহের মূল লক্ষ্য হলো কিছু বিষয়ের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সমগ্র শ্রেণি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া। যদি এই উত্তরণ বা লম্ফ না থাকে, তবে তা আরোহের মৌলিক চরিত্র হারায়। এজন্য আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বা মূল বৈশিষ্ট্য বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এ 'বৈজ্ঞানিক আরোহ'-এর উল্লেখ রয়েছে।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
দৃষ্টান্ত-১ এ সোহেল, টমাস, রনি নামক কয়েকজন বিশেষ মানুষের মরণশীলতা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে "সকল মানুষ হয় মরণশীল"। এখানে মানুষ হিসেবে জীবন ধারণের সাথে মৃত্যুর একটি অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে এবং প্রকৃতি সবসময় একই অবস্থায় একই আচরণ করে। সুতরাং, এটি বৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃষ্টান্ত-২ এ অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এদের মধ্যকার সম্পর্ক তুলনামূলক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
সাদৃশ্য:
১. উভয়ই প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত, কারণ উভয়ের মধ্যেই 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত।
২. উভয় আরোহেই বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
৩. উভয়ই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর বিশ্বাস রেখে সিদ্ধান্ত তৈরি করে।বৈসাদৃশ্য/পার্থক্য:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃষ্টান্ত-১ (বৈজ্ঞানিক আরোহ) কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ) কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; এটি শুধুমাত্র অবাধ ও অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল।
২. সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত, কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য (যেমন ভবিষ্যতে ভিন্ন রঙের কাক দেখার সম্ভাবনা থাকে)।
৩. প্রক্রিয়া: বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রক্রিয়া জটিল ও বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণ-পরীক্ষণ নির্ভর; পক্ষান্তরে অবৈজ্ঞানিক আরোহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল।পরিশেষে বলা যায়, অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রাথমিক ভিত্তি বা প্রথম ধাপ। অবাধ অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত ধারণাই পরবর্তীতে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক আরোহের রূপ ধারণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও