হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
অয়ন নৌকায় নদী পারাপারের সময় নৌকায় ভিড় ছিল। ভিড়ের মাঝে একটি শিশু মায়ের কোল থেকে জলে পড়ে যায়। সকলে চিৎকার করলেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে কেউ আসেনি। অয়ন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। এতে শিশুটির মা খুবই খুশি হয়। অপরদিকে, তপন দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধে অংশ নেন। নিজের কথা না ভেবে প্রাণপণে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেন। যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু যুদ্ধে তার একটি পা হারিয়ে যায়। এতে তার কোনো কষ্ট হয়নি কারণ দেশ আজ স্বাধীন। এটি তার গর্বের বিষয়।
- ক)(1)
বীরের ধর্ম কী?
- খ)(2)
বিভীষণ ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
অয়নের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তপনের কর্মকাণ্ডের শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে কতটুকু তাৎপর্যপূর্ণ তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা বীরের ধর্ম।
- খ)
রাবণ রামের স্ত্রী সীতাকে হরণ করে অধর্ম করেছিলেন। বিভীষণ রাবণকে সীতাকে ফিরিয়ে দিয়ে রামের সাথে সন্ধি করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু রাবণ তাঁকে অপমান করে লঙ্কা থেকে তাড়িয়ে দেন।
তখন বিভীষণ ধর্ম ও ন্যায়ের পক্ষ নিয়ে রামের আশ্রয়ে গিয়ে ভাই রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেন। - গ)
অয়নের সাথে পাঠ্যপুস্তকের রন্তিবর্মা চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। রন্তিবর্মা 'মানবতা' উপাখ্যানের নায়ক।
রন্তিবর্মা প্রজাবৎসল কৃষ্ণভক্ত সম্রাট ছিলেন। অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করে তিনি আটচল্লিশ দিন অনাহারে থাকেন। উনপঞ্চাশতম দিনে খাবার পেয়ে উপবাস ভাঙতে যাবেন, এমন সময় এক ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও তার কুকুর খাবার চায়। রাজা নিজের সবটুকু খাবার তাদের দিয়ে দেন, নিজে অভুক্ত থাকেন। এটিই মানবতা। এর শিক্ষা হলো, মানবতাই ধর্ম।
মিল: অয়ন নৌকায় শিশুটিকে জলে পড়তে দেখে সকলে চিৎকার করলেও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। অন্যের বিপদে নিজের কষ্ট ও ঝুঁকিকে তুচ্ছ করে এগিয়ে আসা মানবতারই প্রকাশ। রন্তিবর্মাও অন্যের ক্ষুধার কষ্ট দূর করতে নিজের কষ্ট বরণ করেছিলেন। দুজনের কাজই মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, দরদ ও জীবসেবার দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
তপনের কর্মকাণ্ডে সৎসাহস ও দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে, যা পাঠ্যবইয়ের তরণীসেন উপাখ্যানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সৎসাহস হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও দেশের মঙ্গলের জন্য সাহস প্রদর্শন করাই সৎসাহস। দ্বাদশবর্ষীয় বালক তরণীসেন দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় 'জয়রাম' ধ্বনি দিয়ে যুদ্ধ করে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। এ উপাখ্যানের শিক্ষা হলো, স্বাধীনতা রক্ষায় যার যতটুকু শক্তি আছে তা প্রয়োগের সৎসাহস থাকা উচিত। তপনও নিজের কথা না ভেবে প্রাণপণে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছেন এবং একটি পা হারিয়েও গর্ব অনুভব করেছেন।
১. সামাজিক তাৎপর্য: সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজ, দেশ ও জাতির অহংকার। তাঁরা বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তপনের মতো মানুষের ত্যাগেই দেশ স্বাধীন হয় এবং সমাজ নিরাপদ থাকে।
২. অন্যায় প্রতিরোধ: দুর্বলের ওপর অত্যাচার হলে সৎসাহস নিয়ে পক্ষে দাঁড়ানো যায়। এই শিক্ষা সমাজে অন্যায়-অবিচার কমায়।
৩. পারিবারিক জীবনে প্রভাব: তরণীসেনের মতো পিতার আদর্শ অনুসরণ ও ধর্মনিষ্ঠা পরিবারে নৈতিক শিক্ষা দেয়। সন্তানেরা সাহসী ও দেশপ্রেমিক হয়ে ওঠে। পরিবার তপনের মতো সদস্যকে নিয়ে গর্ব করে।
৪. কাপুরুষতার বিপরীতে: ভীরু ও কাপুরুষরা সমাজের জঞ্জাল। সৎসাহসের চর্চা মানুষকে এ অবস্থা থেকে বের করে আনে।সুতরাং, তপনের কর্মকাণ্ডের শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও