জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি কী?
- খ)(2)
হৃৎপেশি ক্লান্ত হয় না কেন?
- গ)(3)
'P' এর সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
'P' ও 'R' এর সঞ্চালনে 'Q' টান দেয়, ধাক্কা দেয় না-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেহের কোনো অস্থি বা অঙ্গের বিপরীতমুখী ও পারস্পরিক সমন্বিত সঞ্চালন পরিচালনাকারী পেশিজোড়াকে অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃৎপেশি কখনো ক্লান্ত হয় না কারণ এর কোষগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিপুল পরিমাণ শক্তি (ATP) সরবরাহ করে। এছাড়া এতে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ বজায় থাকায় ল্যাকটিক অ্যাসিড জমতে পারে না। হৃৎপেশির তন্তুগুলো ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক দ্বারা পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকায় একটি কার্যকারী সিনসিটিয়াম হিসেবে ছন্দোবদ্ধভাবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। সংকোচন চক্রের প্রতিটি ধাপের পরপরই এর একটি নির্দিষ্ট বিশ্রামকাল থাকে, যার ফলে হৃৎপেশি কখনো ক্লান্ত হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত 'P' অঙ্গটি হলো হাতের অস্থি (হিউমেরাস)। নিচে অস্থির সূক্ষ্ম গঠন (হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র) বর্ণনা করা হলো:
একটি নিরেট অস্থির গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র (Haversian System বা Osteon)। এর প্রধান অংশগুলো হলো:
১. হ্যাভারসিয়ান নালি: অস্থির লম্বালম্বিভাবে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নালি, যার ভেতর দিয়ে রক্তনালি, স্নায়ু ও লসিকানালি অতিক্রম করে।
২. ল্যামেলি: হ্যাভারসিয়ান নালিকে কেন্দ্র করে সমকেন্দ্রিক বৃত্তাকারে সাজানো ৫ থেকে ২০টি কঠিন ধাত্রের স্তর।
৩. ল্যাকুনি: ল্যামেলির ফাঁকে ফাঁকে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গহ্বর। প্রতিটি ল্যাকুনার অভ্যন্তরে একটি করে অস্থিকোষ বা অস্টিওসাইট থাকে।
৪. ক্যানালিকুলি: ল্যাকুনিগুলো থেকে চারদিকে কতগুলো সূক্ষ্ম নালিকা বিস্তৃত থাকে, যাদের ক্যানালিকুলি বলে। এর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী কোষগুলোর মধ্যে পুষ্টি ও বার্তা আদান-প্রদান ঘটে।
৫. ভকম্যানের নালি: একাধিক হ্যাভারসিয়ান নালি আড়াআড়ি যে নালিগুলোর সাহায্যে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে, সেগুলোকে ভকম্যানের নালি বলে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত 'P' হলো হিউমেরাস, 'R' হলো রেডিয়াস-আলনা এবং 'Q' হলো কঙ্কালপেশি (বাইসেপস ও ট্রাইসেপস পেশি)।
পেশির গঠন ও শারীরবৃত্তিক ধর্মের কারণে পেশি কেবল সংকুচিত হয়ে টান প্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু কোনো বস্তুকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরাতে পারে না। নিম্নে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. অ্যাকটিন ও মায়োসিনের স্লাইডিং ফিলামেন্ট তত্ত্ব অনুযায়ী, স্নায়ু উদ্দীপনার প্রভাবে পেশিতন্তুর মায়োসিন হেডের সাথে অ্যাকটিন ফিলামেন্ট যুক্ত হয়ে ক্রস-ব্রিজ তৈরি করে এবং পেশির সারকোমিয়ার সংকুচিত হয়। এর ফলে পেশি ক্ষুদ্র ও পুরু হয় এবং অস্থির টেন্ডনে টান সৃষ্টি করে।
২. পেশি যখন সংকুচিত হয়, তখন এটি অস্থির ওপর একমুখী টান (Pulling force) প্রয়োগ করে অস্থিকে নিজ অবস্থানের দিকে টেনে আনে। উদাহরণস্বরূপ, হাতের বাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে এটি অগ্রবাহুর অস্থি 'R' (রেডিয়াস-আলনা)-কে টেনে কনুই সন্ধিতে ভাঁজ করে হিউমেরাস 'P'-এর কাছাকাছি নিয়ে আসে।
৩. পেশি কখনো নিজের শক্তিতে ধাক্কা (Push) দিতে পারে না। কনুই সোজা করতে হলে বাইসেপস পেশি ধাক্কা দেয় না, বরং তা শিথিল হয় এবং এর বিপরীতমুখী (অ্যান্টাগোনিস্টিক) পেশি অর্থাৎ ট্রাইসেপস পেশি সংকুচিত হয়ে কনুইকে বিপরীত দিকে টেনে নিয়ে প্রসারিত করে।সুতরাং, অস্থি P ও R-এর সঞ্চালনে কঙ্কালপেশি Q কেবল টান দিতে পারে, কখনো ধাক্কা দিতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও