অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' দেশের জনগণ দরিদ্র, উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়া দেশে প্রতিবছর বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু উক্ত দেশের জনগণ অতি মুনাফালোভী। শাকসবজি, ফলমূল সংরক্ষণে ক্ষতিকর বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ ঘটায়। এরূপ ভেজাল খাবার খেয়ে দেশের যুবসমাজের স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তার এরূপ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং এনজিওরা সোচ্চার হয়ে উঠে এবংসরকারও এ ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
- ক)(1)
খাদ্যের প্রাপ্যতা কী?
- খ)(2)
বৈদেশিক বাণিজ্য দ্বারা খাদ্যের প্রাপ্যতা কিভাবে প্রভাবিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুসারে 'ক' দেশের খাদ্য নিরাপত্তার দিকগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি সংস্থা ও জনগণের কি ভূমিকা হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, সরকারি ও বেসরকারি মজুদ এবং মোট আমদানির সমন্বয়ে মানুষের খাওয়ার উপযোগী খাদ্যশস্যের মোট সরবরাহকে খাদ্যের প্রাপ্যতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত হয়, যা খাদ্যের প্রাপ্যতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কোনো দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলে বৈদেশিক বাণিজ্যের আওতায় দ্রুত খাদ্য আমদানি করে প্রাপ্যতার ঘাটতি পূরণ করা যায়। পক্ষান্তরে, দেশের চাহিদার তুলনায় বেশি রপ্তানি করলে বা আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি প্রধান দিক বা মাত্রা রয়েছে: খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্যের সার্বিক উপযোগিতা বা গুণগত মান, এবং খাদ্যের সামর্থ্য বা প্রবেশাধিকার। উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে 'ক' দেশের খাদ্য নিরাপত্তার দিকগুলো নিচে চিহ্নিত করা হলো:
১. খাদ্যের প্রাপ্যতা (Food Availability): উদ্দীপকে উল্লেখ আছে উৎপাদিত খাদ্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অর্থাৎ, দেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতার ঘাটতি রয়েছে।
২. খাদ্যের উপযোগিতা বা পুষ্টিমান ও নিরাপদতা (Food Utilization): উদ্দীপকে বলা হয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা শাকসবজি ও ফলমূল সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশায়, যা খাদ্যকে বিষাক্ত ও অনিরাপদ করে তুলেছে। ফলে জনগণ পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
৩. খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা বা প্রবেশাধিকার (Food Accessibility): জনগণ দরিদ্র হওয়ায় তাদের পুষ্টিকর খাদ্য কেনার আর্থিক সামর্থ্য সীমিত।
অতএব, উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি দিকের মধ্যে মূলত খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং খাদ্যের নিরাপদতার মারাত্মক সংকট প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দেশের খাদ্য সংকট ও রাসায়নিক মেশানোর প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সাধারণ জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।
বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) ভূমিকা:
১. কৃষক পর্যায়ে আধুনিক ও দুর্যোগসহনশীল কৃষিপ্রযুক্তি এবং উন্নত বীজ সরবরাহে সহায়তা করা।
২. কৃষকদের জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন ও নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।
৩. খাদ্য সংরক্ষণ এবং খাদ্যে রাসায়নিক মিশ্রণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা।
৪. দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিশেষ পুষ্টি কর্মসূচি পরিচালনা করা।জনগণের ভূমিকা:
১. ব্যবসায়ী শ্রেণির মধ্যে অতি মুনাফালোভী মনোভাব ত্যাগ করে খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার বন্ধ করা।
২. ভোক্তাদের ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে সচেতন হওয়া এবং ভেজালকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা ও আইনের হাতে তুলে দেওয়া।
৩. খাদ্য অপচয় রোধ করা এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণে যত্নবান হওয়া।সুতরাং, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং জনগণের নৈতিক দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও