‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

নূরুল ইসলাম একজন রাজনৈতিক নেতা। সাধারণ মানুষের কল্যাণ তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সকলের জন্য ন্যূনতম দু'বেলা খাবার নিশ্চিত করা তার স্বপ্ন। কৃষি উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

  1. ক)

    ফরায়েজি আন্দোলন কী?

    (1)
  2. খ)

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরায়েজি আন্দোলন হলো উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক সূচিত ইসলাম ধর্মের 'ফরজ' বা অবশ্য পালনীয় বিধানের ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের সর্বোচ্চ আইন অর্থাৎ সংবিধানের প্রত্যক্ষ নির্দেশ বা অনুচ্ছেদের মাধ্যমে গঠিত ও পরিচালিত হয়, সেগুলোকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।

    এসব প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং কার্যপদ্ধতি সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত ও সংরক্ষিত থাকে। সাধারণ আইনের মাধ্যমে সহজে এদের অস্তিত্ব পরিবর্তন বা বিলুপ্ত করা যায় না। যেমন— নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC), এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ইত্যাদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত নূরুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবনের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক আজীবন সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলার মানুষের ন্যূনতম দুবেলা অন্নসংস্থান নিশ্চিত করাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    উদ্দীপকের নূরুল ইসলাম একজন রাজনৈতিক নেতা, যাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কল্যাণ, সবার জন্য ন্যূনতম দু'বেলা খাবার নিশ্চিত করা এবং কৃষির উন্নয়ন সাধন করা। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকও ছিলেন বাংলার কৃষকদের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' ও 'কৃষক প্রজা পার্টি' গঠন করে ঋণ সালিশী বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধনের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণের বোঝা ও জমিদারি শোষণ থেকে রক্ষা করেছিলেন। সুতরাং, উদ্দীপকের নূরুল ইসলামের চরিত্রে কৃষকবান্ধব নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি—উক্তিটি যথার্থ।

    শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সর্বদাই বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক ছিলেন। তিনি তাঁর পোশাক-আশাক, চালচলন, ভাষা ও চিন্তাভাবনায় পুরোপুরি একজন আপাদমস্তক বাঙালি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন উচ্চবিত্ত বা অভিজাত মুসলিম নেতাদের মতো তিনি উর্দু বা ইংরেজিকে প্রাধান্য না দিয়ে সবসময় সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলতেন এবং বাংলা ভাষাকে ধারণ করতেন।

    বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত মুক্তির জন্য তিনি অবিরাম সংগ্রাম করেছেন। তিনি বাংলার কৃষক-প্রজাদের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেওয়ার জন্য ঋণ সালিশী বোর্ড ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন প্রবর্তন করেছিলেন। এছাড়া বাঙালি মুসলমানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, চাখার ফজলুল হক কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক হিসেবে এবং পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাঙালির স্বাধিকার চেতনার ভিত্তি স্থাপন করেন।

    পরিশেষে বলা যায়, সাধারণ বাঙালির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, তাদের শোষণমুক্তির লড়াই এবং আজীবন বাঙালি সত্তা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করার কারণেই শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন প্রকৃত ও খাঁটি বাঙালি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন