হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

পরেশ বাবু একজন সজ্জন ব্যক্তি। তিনি সর্বদাই সবার সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান। তার প্রতি যে কেউ অন্যায়-অবিচার করুক না কেন তিনি সবাইকে মনে প্রাণে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখেন। সমাজের অনেক অধার্মিক ব্যক্তিকে ধর্মপথে ফিরিয়ে আনেন। অপরদিকে তার গ্রামের কমল বাবু ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়ান। নিজের ওপর ও ঈশ্বরের প্রতি প্রবল বিশ্বাস রেখেই তিনি যেকোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

  1. ক)

    অবতার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিজয়কৃষ্ণ কেন ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পরেশ বাবুর মধ্যে পাঠ্যবইয়ের কার মতাদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "কমল বাবুর অনুসৃত পথের মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভগবান বিষ্ণু যখন জগতের কল্যাণের জন্য বিভিন্নরূপে বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে অবতার বলে।

  2. খ)

    বিজয়কৃষ্ণ কলকাতার মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ‘হিতসঞ্চারিণী’ সভায় জাতিভেদের চিহ্ন হিসেবে পৈতা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় ব্রাহ্মসমাজের সাথে তাঁর যোগাযোগ ঘটে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্রের বক্তৃতা শুনে তাঁর মনে পরিবর্তন আসে। ফলে তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হয়ে তা গ্রহণ করেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকে পরেশ বাবুর সাথে পাঠ্যবইয়ের প্রভু নিত্যানন্দের মতাদর্শের মিল রয়েছে।

    ধারণা : প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীগৌরাঙ্গের সহযোগী হয়ে গৌড়দেশে কৃষ্ণনাম ও প্রেমভক্তি প্রচার করেছিলেন। তাঁর প্রেমধর্মে জাতিভেদ বা উঁচু-নিচু ছিল না। নবদ্বীপে মদ্যপ ও ভয়ংকর জগাই-মাধাই তাঁকে আঘাত করে রক্তাক্ত করলেও তিনি তাঁদের ক্ষমা করেন, বুকে টেনে নেন এবং প্রেমভক্তি দিয়ে উদ্ধার করেন।

    উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : পরেশ বাবু সবার সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান। তাঁর প্রতি কেউ অন্যায়-অবিচার করলেও তিনি তাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেন, যা মাধাইয়ের আঘাত সত্ত্বেও নিত্যানন্দের ক্ষমা ও প্রেমের সাথে মেলে। এছাড়া তিনি সমাজের অধার্মিক ব্যক্তিদের ধর্মপথে ফিরিয়ে আনেন, যা নিত্যানন্দের জগাই-মাধাই উদ্ধারের অনুরূপ।

    অতএব, পরেশ বাবুর আদর্শ প্রভু নিত্যানন্দের মতাদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    ‘কমল বাবুর অনুসৃত পথে ধর্মীয় চেতনাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব’—বক্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের কমল বাবু ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান এবং নিজের ওপর ও ঈশ্বরের ওপর প্রবল বিশ্বাস নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর সাথে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের মিল রয়েছে।

    ধারণা : স্বামী বিবেকানন্দ গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হয়ে ধর্ম ও মানবসেবার প্রচারে ভারতবর্ষ ঘুরেছেন, ১৮৯৩ সালে শিকাগোর বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়েছেন এবং ইউরোপ ও আমেরিকায় বেদান্ত প্রচার করেছেন।

    ১. ধর্মপ্রচারে বিশ্বজয় : বিবেকানন্দ শিকাগোর বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বলেন, সব ধর্মের লক্ষ্য এক—ঈশ্বরলাভ। তাঁর বক্তৃতায় পাশ্চাত্যের মানুষ হিন্দুধর্ম ও দর্শন সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারে। কমল বাবুর দেশ-বিদেশে ঘোরাও একই ধরনের ধর্মীয় চেতনা প্রসারের প্রচেষ্টা।
    ২. বিশ্বাসের শক্তি : বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘আত্মবিশ্বাস ও ঈশ্বরে বিশ্বাস—এ দুটিই উন্নতির একমাত্র উপায়।’ কমল বাবুও নিজের ওপর ও ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করেন, ফলে তিনি সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন।
    ৩. সেবা ও সমন্বয় : বিবেকানন্দ ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবাকে ধর্ম বলেছেন। তিনি রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ প্রতিষ্ঠা করে ধর্মচর্চার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও আপৎকালীন সেবা চালু করেছেন। এ পথ অনুসরণ করলে ধর্মচেতনা শুধু আচারে সীমাবদ্ধ না থেকে মানবকল্যাণে পরিণত হয়।
    ৪. সীমাবদ্ধতা : বিবেকানন্দ বলেছেন, অন্নের ব্যবস্থা ছাড়া ধর্ম হয় না। তাই কেবল প্রচার নয়, সেবাকেও সমান গুরুত্ব দিলে ধর্মীয় চেতনা বাস্তবে এগিয়ে যায়।

    সুতরাং, কমল বাবুর অনুসৃত পথ, অর্থাৎ বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও প্রচারের মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন