ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলাম প্রশ্ন
আজিম উদ্দিন সাহেব অনেক সম্পদের মালিক। তিনি কিছুদিন পরপর গ্রামে এসে সকলের সাথে মসজিদে নামায আদায়ের পাশাপাশি দান-খয়রাতও করেন। সমাজের সকলের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তার এ সকল কাজের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে তিনি মানুষের প্রশংসা পাবেন এবং খ্যাতি লাভ করবেন। অন্যদিকে আজিম উদ্দিন সাহেবের বড় ভাই আফাজ উদ্দিন দারিদ্র্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত। প্রতিনিয়ত অভাব ও দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। আফাজ সাহেবের স্ত্রী মাঝে মধ্যে অধৈর্য হলে, তিনি স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহর প্রতি ভরসা নিয়ে ধৈর্যসহকারে মোকাবিলা করার কথা বলেন। কেননা অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।
- ক)(1)
সূরা আত্-তীন কোথায় অবতীর্ণ হয়?
- খ)(2)
মক্কি ও মাদানি সূরার পার্থক্য লেখো।
- গ)(3)
জনাব আজিম উদ্দিন সাহেবের কাজের মনোভাব তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
স্ত্রীর উদ্দেশ্যে দেয়া আফাজ সাহেবের বক্তব্যটিতে কোন সুরার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে তা উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সূরা আত-তীন মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এটি মক্কি সূরা।
- খ)
১. নাযিলের সময়: হিজরতের আগে যেসব সূরা নাযিল হয়েছে, সেগুলো মক্কি। হিজরতের পরে যেগুলো নাযিল হয়েছে, সেগুলো মাদানি।
২. বিষয়বস্তু: মক্কি সূরায় সাধারণত তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত বিষয়ে আলোচনা বেশি। মাদানি সূরায় সালাত, জাকাত, সামাজিক ও আইনগত বিধান বেশি।
৩. আকার: মক্কি সূরার আয়াতগুলো সাধারণত ছোট, আর মাদানি সূরার আয়াত তুলনামূলক বড়। - গ)
আজিম উদ্দিন সাহেবের কাজের মনোভাব সেই হাদিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে রিয়া বা লোকদেখানো আমলের নিন্দা করা হয়েছে। রাসুল (স.) বলেছেন, সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
আজিম উদ্দিন নামায আদায় ও দান-খয়রাত করেন, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়, মানুষের প্রশংসা ও খ্যাতি পাওয়ার জন্য। হাদিসে রিয়াকে ছোট শিরক বলা হয়েছে। অসৎ নিয়তের কারণে এসব ইবাদতের সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়।
- ঘ)
আফাজ সাহেবের বক্তব্যে সূরা আল-ইনশিরাহ-এর শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
এ সূরায় আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে"। আফাজ দারিদ্র্যে কষ্ট পেলেও স্ত্রীকে বলেছেন, আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে ধৈর্যসহকারে মোকাবিলা করতে, কারণ কষ্টের পর স্বস্তি আসবেই।
বিশ্লেষণ:
১. কষ্ট চিরস্থায়ী নয়; আল্লাহ কষ্টের পর সুদিন দেন, এ বিশ্বাস মানুষকে হতাশা থেকে রক্ষা করে।
২. সূরার শেষে আল্লাহর প্রতি আগ্রহ ও ভরসার নির্দেশ আছে, যা আফাজ পালন করেছেন।
৩. ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে মুমিন বিপদে স্থির থাকে।সুতরাং, আফাজ সাহেবের বক্তব্য সূরা ইনশিরাহের শিক্ষার সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও