ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: রিমি তার বাবার সাথে পৃথিবীর বারিমণ্ডল নিয়ে আলোচনা করছিল। সে তার বাবার কাছে জানতে পারে পৃথিবীর পানিরাশি স্থির অবস্থায় থাকে না বরং তা সর্বদা চক্রাকারে আবর্তিত হয় এবং পরিবর্তন ঘটায়,।দৃশ্যকল্প-২: সামিন, আবহাওয়া ও 'জলবায়ুর উপর রচিত বই পড়ে জানতে পারে বায়ুমণ্ডলে একটি স্তর আছে যেখানে উচ্চতা বাড়লে বাতাসে গতিবেগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং আরেকটি স্তর আছে যেখানে মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে গ্যাসীয় কণা অসীম মহাকাশে মিশে যায়।

  1. ক)

    বৃষ্টিপাত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কীভাবে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত, চক্রটির বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    সামিনের জানা বায়ুমণ্ডলের স্তর দুটির মধ্যে কোনটি জীবকুলের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পানির ফোঁটা আকারে ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়াকে বৃষ্টিপাত বলে।

  2. খ)

    স্থানীয় বায়ু সৃষ্টি হয় কোনো নির্দিষ্ট ছোট এলাকায় তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে। স্থল ও জল ভিন্ন হারে উত্তপ্ত ও শীতল হয়। দিনে স্থল দ্রুত গরম হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি করে এবং সাগর থেকে বায়ু স্থলে আসে। রাতে তার উল্টো হয়। এভাবে সমুদ্র বায়ু, স্থল বায়ু, পাহাড়ি ও উপত্যকার বায়ুর মতো স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ উল্লিখিত চক্রটি জলচক্র (Hydrological Cycle)।

    পৃথিবীর পানি সূর্যতাপে বাষ্প হয়ে ওপরে ওঠে, ঘনীভূত হয়ে মেঘ হয় এবং আবার বৃষ্টি, তুষার ইত্যাদি রূপে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। ধাপগুলো হলো:
    ১. বাষ্পীভবন: সাগর, নদী ও উদ্ভিদ থেকে পানি বাষ্প হয়।
    ২. ঘনীভবন: বাষ্প ঠান্ডা হয়ে মেঘ তৈরি করে।
    ৩. বৃষ্টিপাত: মেঘ থেকে বৃষ্টি, তুষার বা শিলা হয়ে পানি নিচে নামে।
    ৪. প্রবাহ: ভূপৃষ্ঠের পানি নদী বেয়ে সাগরে ফিরে যায়, কিছুটা মাটিতে শোষিত হয়।

    এভাবে পানি অবিরাম চক্রাকারে ঘুরতে থাকে।

  4. ঘ)

    সামিনের জানা বায়ুমণ্ডলের স্তর দুটি হলো ট্রপোস্ফিয়ার (যেখানে ভূপৃষ্ঠের ঘর্ষণ কমে বলে উচ্চতার সাথে বায়ুর গতি বাড়ে) এবং এক্সোস্ফিয়ার (যেখানে অভিকর্ষ কম বলে গ্যাসীয় কণা মহাকাশে মিশে যায়)। আমার মতে, জীবকুলের জন্য ট্রপোস্ফিয়ার অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. শ্বাস-প্রশ্বাস: জীবজগৎ এ স্তরের অক্সিজেনে শ্বাস নেয়।
    ২. আবহাওয়া: মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় এ স্তরেই ঘটে, যা কৃষি ও পানির জোগানের জন্য প্রয়োজনীয়।
    ৩. বাসযোগ্য তাপমাত্রা: জলীয় বাষ্প ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তাপ ধরে রেখে পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখে।
    ৪. এক্সোস্ফিয়ারের ভূমিকা: এ স্তর বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা এবং এখানে বায়ু এত হালকা যে জীবের জন্য সরাসরি প্রয়োজনীয় কোনো উপাদান নেই।

    সুতরাং, জীবকুলের বেঁচে থাকার জন্য ট্রপোস্ফিয়ার অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন