রসায়ন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
একজন ছাত্র লাবরেটরিতে X-পদ্ধতিতে 10 mg এর চেয়ে কম পরিমাণ এবং Y-পদ্ধতিতে 0.5 g পরিমাণ 2% WV\frac{W}{V} HCI এর নমুনা নিয়ে কাজ করে।
- ক)(1)
নোড কাকে বলে?
- খ)(2)
Cl₂ অপোলার- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের এসিডটির মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কোন পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চারপাশের যে স্থানে বা অঞ্চলে ইলেকট্রন পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্য (বা ইলেকট্রন মেঘের ঘনত্ব শূন্য), তাকে নোড (Node) বা নোডাল তল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি একই মৌলের পরমাণু যখন পরস্পরের সাথে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান সমান হয়। ফলে বন্ধনে অংশগ্রহণকারী ইলেকট্রন যুগলকে কোনো পরমাণুই নিজের দিকে অধিক আকর্ষণ করতে পারে না।
Cl₂ অণুতে দুটি ক্লোরিন পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্য শূন্য (ΔEN = 0)। এর ফলে ক্লোরিন অণুতে কোনো ধনাত্মক বা ঋণাত্মক প্রান্ত অর্থাৎ পোলারিটির সৃষ্টি হয় না এবং অণুটির নেট ডাইপোল মোমেন্টের মান শূন্য হয়। তাই Cl₂ একটি অপোলার সমযোজী অণু।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অ্যাসিডটির ঘনমাত্রা দেওয়া আছে 2% (W/V) HCl।
আমরা জানি,
2% (W/V) HCl দ্রবণ বলতে বোঝায় 100 mL দ্রবণে 2 g HCl দ্রবীভূত আছে।এখানে,
দ্রবণের আয়তন, V = 100 mL = 0.1 L
দ্রব্যের ভর, w = 2 g
HCl-এর আণবিক ভর, M = 1 + 35.5 = 36.5 g/molমোলার ঘনমাত্রা (S) নির্ণয়ের সূত্র:
S = (1000 × w) / (M × V(mL))
= (1000 × 2) / (36.5 × 100)
= 20 / 36.5
≈ 0.5479 M বা 0.548 mol/Lঅথবা সরাসরি সূত্র প্রয়োগ করে,
S = (10 × x) / M
= (10 × 2) / 36.5
= 0.548 Mঅতএব, উদ্দীপকের অ্যাসিডটির মোলার ঘনমাত্রা 0.548 M।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত X-পদ্ধতি এবং Y-পদ্ধতির মধ্যে X-পদ্ধতিটি অধিক পরিবেশবান্ধব। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, X-পদ্ধতিতে নমুনার পরিমাণ 10 mg এর চেয়ে কম (মাইক্রো বিশ্লেষণ পদ্ধতি) এবং Y-পদ্ধতিতে নমুনার পরিমাণ 0.5 g (ম্যাক্রো বিশ্লেষণ পদ্ধতি বা সেমি-মাইক্রো বিশ্লেষণ পদ্ধতির উচ্চসীমা)।
পরিবেশবান্ধব হওয়ার কারণসমূহ:
১. নমুনার স্বল্প ব্যবহার: মাইক্রো পদ্ধতিতে (X-পদ্ধতি) মাত্র 5 mg থেকে 10 mg বা 1 mL-এর চেয়ে কম দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত থাকে।
২. বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস: রাসায়নিক পরীক্ষার পর উৎপন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য (যেমন: অ্যাসিডের বাষ্প, বিষাক্ত গ্যাস ও দ্রবণ) মাইক্রো পদ্ধতিতে নগণ্য পরিমাণে উৎপন্ন হয়। এটি পরিবেশ দূষণ রোধে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
৩. স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস: ল্যাবরেটরিতে শিক্ষার্থী বা গবেষকের বিষাক্ত গ্যাস (যেমন: HCl গ্যাস, H₂S ইত্যাদি) শ্বাস গ্রহণের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
৪. শক্তি ও সময় সাশ্রয়: ক্ষুদ্র পরিমাণ রাসায়নিক নিয়ে কাজ করায় বিক্রিয়ার দ্রুত পরিসমাপ্তি ঘটে এবং তাপশক্তি কম খরচ হয়।অপরদিকে, Y-পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি (0.5 g) রাসায়নিক ব্যবহৃত হওয়ায় উৎপন্ন রাসায়নিক বর্জ্যের পরিমাণও বেশি হয়, যা নর্দমায় ফেলে দিলে পরিবেশ ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে।
সুতরাং, রাসায়নিক বর্জ্য কম উৎপন্ন হওয়া এবং সার্বিক ল্যাবরেটরি ও পরিবেশের ঝুঁকি হ্রাস করার কারণে X-পদ্ধতিটি (মাইক্রো পদ্ধতি) অধিক পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন কেমিস্ট্রির অনুকূল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও