হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নিম্নের অনুরুপঃশ্যামল খুব মেধাবী এবং ভালো ছাত্র ছিল। সে অসৎ সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে অর্থ জোগাড় করার জন্য সে চুরি এবং মিথ্যার আশ্রয় নিতে থাকে। তার বাবা-মা অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে শ্যামলকে মাদকদ্রব্য নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দেন।

  1. ক)

    নমস্কার কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    মাদক গ্রহণ কেন অধর্ম? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    শ্যামলের এই অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায়গুলো আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'অসৎ সঙ্গের দৌরাত্ম্যে মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে'- পাঠ্যপুস্তক এবং শ্যামলের জীবনের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নমস্কার তিন প্রকার: কায়িক, বাচিক ও মানসিক।

  2. খ)

    মাদক গ্রহণ মাদকগ্রহণকারীর স্বাভাবিক চেতনাকে বিমূঢ় করে দেয়। তিনি তখন প্রকৃতিস্থ ও সুস্থ থাকেন না। অসুস্থ দেহ ও মনে তাঁর আচরণে অনৈতিকতা প্রকাশ পায়। নেশার টাকা জোগাড়ে চুরি ও মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, পরিবার ও সমাজের বন্ধন নষ্ট হয়। আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করেন, তাই দেহ ঈশ্বরের মন্দির, মাদক তাকে অপবিত্র করে। এজন্য মাদক গ্রহণ অধর্ম।

  3. গ)

    শ্যামল মেধাবী ছাত্র হয়েও অসৎ সঙ্গে মাদকাসক্ত হয়েছে এবং নেশার অর্থের জন্য চুরি ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। এ অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিচে আলোচনা করা হলো।

    মাদকাসক্তির কারণ ও ক্ষতি: পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মাদকাসক্তি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি করে। মাদকাসক্তের বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়, মস্তিষ্কবিকৃতিও ঘটতে পারে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে সে অসৎ উপায় অবলম্বনে দ্বিধা করে না। হিন্দুধর্ম অনুসারে মাদকাসক্তি ঘোরতর পাপ, আর যাঁরা তার সঙ্গ করেন তাঁরাও পাপী হন।

    প্রতিকারের উপায়:
    ১. মাদকাসক্তকে ঘৃণা না করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের জন্য নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা। শ্যামলের বাবা-মা ঠিক তা-ই করেছেন।
    ২. তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা পারিবারিক কর্তব্য, তাই স্নেহ, সহানুভূতি ও সাহচর্য দিয়ে পাশে থাকা।
    ৩. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাকে বোঝানো যে মাদক অধর্মের পথ।

    প্রতিরোধের উপায়:
    ১. সন্তানদের দৈনন্দিন জীবন ও বন্ধুদের প্রতি লক্ষ রাখা, অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে রাখা।
    ২. শুধু শাসন নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করা। শ্রী চৈতন্যচরিতামৃতে আছে, ‘আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়’। অর্থাৎ বাবা-মা নিজেরা আদর্শ হয়ে সন্তানকে শেখাবেন।
    ৩. পরিবারে এ অঙ্গীকার করা: ‘ধূমপান মাদকগ্রহণ অধর্মের পথ, চালাব না সে পাপপথে আমার জীবনরথ।’

    সুতরাং, পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শ্যামলের মতো তরুণদের রক্ষা করা সম্ভব।

  4. ঘ)

    ‘অসৎ সঙ্গের দৌরাত্ম্যে মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে’, উক্তিটি যথার্থ। পাঠ্যবই ও শ্যামলের জীবন উভয় ক্ষেত্রেই এর প্রমাণ মেলে।

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে: ধর্মপথে চলার জন্য সৎ আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধ অপরিহার্য। অধার্মিক ব্যক্তি কাম, ক্রোধ ও লোভে তাড়িত হয়ে কুকর্মে লিপ্ত থাকে। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মাদকাসক্তের সঙ্গ যাঁরা করেন, তাঁদেরও পাপ স্পর্শ করে। অসৎ সঙ্গে মিশলে ভালো মানুষও অধর্মের পথে চলে যায়।

    ১. নৈতিক অবনতি: শ্যামল মেধাবী ও ভালো ছাত্র ছিল। অসৎ সঙ্গে মিশে সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং চুরি ও মিথ্যার আশ্রয় নেয়। সঙ্গের প্রভাবে তার সততা ও সংযম নষ্ট হয়।
    ২. শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি: মাদক গ্রহণের ফলে বিভিন্ন রোগ হয়, চেতনা ও বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়। এতে শ্যামলের মেধা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
    ৩. পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতি: বাবা-মা অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যায়।
    ৪. আর্থিক ক্ষতি: নেশার খরচ জোগাতে অর্থ অপচয় ও অপরাধ বাড়ে।

    তবে অধর্মের পথ ছেড়ে ধর্মপথে ফিরলে পাপীও পরিশুদ্ধ হতে পারে। তাই শ্যামলের মতো তরুণদের সৎসঙ্গ ও ধর্মীয় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

    সুতরাং, অসৎ সঙ্গ মানুষের নৈতিক, শারীরিক, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মারাত্মক ক্ষতি করে, তাই এ থেকে সর্বদা সাবধান থাকা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন