কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
আমাদের দেশে গবাদিপশুর খাদ্যের প্রাপ্যতা ঋতুভেদে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। শীতকালে ও বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির সময়ে অনেক স্থানেই ঘাসের অভাব দেখা দেয়। তাই যখন বেশি ঘাস পাওয়া যায় তখন ঘাস সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি।
- ক)(1)
দানাদার খাদ্য কাকে বলে ?
- খ)(2)
পুকুর থেকে রাক্ষুসে মাছ অপসারণ করতে হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে একটি সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংরক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ধান, গম, ভুট্টা, যব, খৈল, ভুসি ইত্যাদি যেসব খাদ্যে আঁশ কম এবং শর্করা ও আমিষ বেশি থাকে, সেগুলোকে দানাদার খাদ্য বলে।
- খ)
রাক্ষুসে মাছ (যেমন শোল, বোয়াল, গজার) পুকুরের অন্য চাষ করা মাছের পোনা খেয়ে ফেলে। এরা চাষের মাছের সাথে খাদ্য ও স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা করে। ফলে মাছের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার হার কমে যায় এবং উৎপাদন কমে। তাই পোনা ছাড়ার আগে পুকুর থেকে এদের সরাতে হয়।
- গ)
উদ্দীপকে বেশি ঘাস পাওয়ার সময় ঘাস সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। ঘাস সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি হলো হে (Hay) তৈরি।
১. ফুল আসার আগে বা শুরুর সময় ঘাস কেটে নিতে হয়।
২. কাটা ঘাস পাতলা করে রোদে ২–৩ দিন শুকাতে হয় এবং মাঝে মাঝে উল্টে দিতে হয়, যেন আর্দ্রতা প্রায় ১৫–২০% এ নেমে আসে।
৩. শুকনো ঘাস আঁটি বেঁধে শুকনো, বাতাস চলাচলকারী ও বৃষ্টির পানি থেকে নিরাপদ জায়গায় গাদা করে বা ঘরে রাখতে হয়। - ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘাস সংরক্ষণ (হে তৈরি) গবাদিপশুর খাদ্য জোগানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১. বর্ষা ও শীতকালে ঘাসের অভাবের সময় সংরক্ষিত ঘাস খাইয়ে গবাদিপশুর খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করা যায়।
২. বেশি ঘাস থাকার সময় তা নষ্ট না করে সংরক্ষণ করলে খাদ্যের অপচয় কমে।
৩. সারা বছর নিয়মিত খাদ্য পেলে পশুর দুধ, মাংস ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ফলে খামারির আয় বাড়ে।
৪. সংরক্ষিত ঘাস বেশি দিন ব্যবহার করা যায় এবং প্রয়োজনে বিক্রিও করা যায়।
সুতরাং, ঘাস সংরক্ষণ গবাদিপশু পালনে খাদ্য সংকট দূর করে লাভজনকভাবে খামার চালাতে সাহায্য করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও