পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

গ্রামের বিত্তশালী কৃষক রহিম মিয়া নাতি-নাতনির মুখ দেখার আশায় তার একমাত্র পুত্র সন্তান ফারহানকে অল্প বয়সে বিয়ে দেন। বছর না ঘুরতেই তিনি দাদা হন। অপরদিকে রিক্সাচালক করিম যাচাই-বাচাই না করেই তার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে অবস্থাসম্পন্ন সচ্ছল পরিবারের পাত্রের সাথে বিয়ে দেন। পাত্র ছিল অত্যন্ত বদরাগী। দিনশেষে ঘরে ফিরে সামান্য ভুলের কারণে বউকে বেদম প্রহার করে। ফলে তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে।

  1. ক)

    বাংলাদেশের প্রতিবর্গ কি. মি. কত জন লোক বাস করে?

    (1)
  2. খ)

    নিরক্ষরতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ কোন ধরনের সামাজিক সমস্যার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর সামাজিক সমস্যাটি মোকাবিলা করার জন্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত তুলে ধরো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১,১১৯ জন লোক বাস করে (আদমশুমারি ২০২২)।

  2. খ)

    নিরক্ষর মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে না, ফলে উৎপাদনশীলতা কম থাকে। তারা নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উন্নত পদ্ধতি গ্রহণে অক্ষম হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা কুসংস্কার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতো সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে। দক্ষ জনশক্তির অভাবে দেশের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার হয় না। তাই নিরক্ষরতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ রহিম মিয়া নাতি-নাতনির মুখ দেখার আশায় একমাত্র পুত্র ফারহানকে অল্প বয়সে বিয়ে দেন। এটি বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যা।

    আইন অনুযায়ী বিয়ের ন্যূনতম বয়স মেয়েদের ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর। এর কম বয়সে বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ। এর কারণ কুসংস্কার, অজ্ঞতা, দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা। এর ফলে অল্প বয়সে দায়িত্ব ও সন্তানের বোঝা, শিক্ষা ব্যাহত হওয়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। ফারহানের অল্প বয়সে বিয়ে ও বছর না ঘুরতেই বাবা হওয়া এই সমস্যারই প্রকাশ।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ নবম শ্রেণির ছাত্রীকে যাচাই না করে বদরাগী পাত্রের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বউ নির্যাতনের শিকার হয়। এখানে সমস্যা হলো বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন। এর মোকাবিলায় পাঠ্যবইয়ের আলোকে আমার মতামত নিচে দেওয়া হলো।

    ১. সচেতনতা সৃষ্টি: গণমাধ্যম, স্কুল ও সমাজের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
    ২. আইনের কঠোর প্রয়োগ: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং বিয়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে।
    ৩. শিক্ষার প্রসার: মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ালে এবং উপবৃত্তি দিলে তারা আত্মনির্ভর হবে ও অভিভাবকরা বিয়ে দিতে আগ্রহ হারাবে।
    ৪. দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন: কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বাধীনতা বাড়ালে পরিবারগুলো আর্থিক চাপে কন্যাকে বিয়ে দেবে না।

    সুতরাং, সচেতনতা, আইন প্রয়োগ, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের সমন্বিত উদ্যোগেই এই সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন