ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    নিয়ত বায়ু কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বায়ু প্রবাহের কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'গ' অঞ্চলের আবহাওয়ার বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' ও 'খ' চাপ বলয়দ্বয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নিয়মিতভাবে এবং নির্দিষ্ট গতি ও দিক বজায় রেখে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বায়ুপ্রবাহের প্রধান কারণ হলো বায়ুমণ্ডলে চাপের তারতম্য। ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা, জলভাগ ও স্থলভাগের বণ্টন এবং উচ্চতার ভিন্নতার কারণে বায়ুচাপের পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। কোনো স্থানের বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। তখন আশেপাশের শীতল ও ঘন বায়ু সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়। এছাড়া পৃথিবীর আবর্তনজনিত কোরিওলিস বলের কারণে বায়ুর দিক বিক্ষেপ ঘটে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'গ' অঞ্চলটি নিরক্ষরেখা (0∘0^\circ) বরাবর অবস্থিত, যা নিরক্ষীয় শান্ত বলয় বা নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়কে নির্দেশ করে।

    এই অঞ্চলের আবহাওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
    ১. অধিক তাপমাত্রা: এখানে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে উষ্ণতা সবসময় বেশি থাকে এবং ঋতুভেদ অনুভূত হয় না।
    ২. পরিচলন বৃষ্টিপাত: অতিরিক্ত উত্তাপে বাতাস উষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে সোজা ওপরে উঠে যায় এবং শীতল ও ঘনীভূত হয়ে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে বা সন্ধ্যায় বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রচুর পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়।
    ৩. শান্তাবস্থা ও অনুভূমিক বায়ুর অভাব: এই অঞ্চলে বায়ুর উল্লম্ব বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ প্রধান হওয়ায় অনুভূমিক কোনো তীব্র বায়ুপ্রবাহ পরিলক্ষিত হয় না। ফলে বায়ুমণ্ডল সাধারণত শান্ত থাকে, যাকে 'নিরক্ষীয় শান্ত বলয়' (Doldrums) বলা হয়।
    ৪. আর্দ্রতা: জলভাগের প্রাচুর্য ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে, ফলে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা খুব বেশি থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' অঞ্চলটি মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় এবং 'খ' অঞ্চলটি উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়)-কে নির্দেশ করে। নিচে এ দুটি চাপ বলয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. ভৌগোলিক অবস্থান: 'ক' অঞ্চল বা মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয়টি উত্তর মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮০∘৮০^\circ উত্তর থেকে মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। অপরদিকে, 'খ' অঞ্চল বা উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়টি ক্রান্তীয় অঞ্চলের কাছে প্রায় ২৫∘২৫^\circ থেকে ৩৫∘৩৫^\circ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।

    ২. তাপমাত্রাগত কারণ: 'ক' অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারা বছর অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে বা দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকে, ফলে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বায়ু শীতল ও ভারী হয়ে উচ্চচাপের সৃষ্টি করে। এটি মূলত তাপমাত্রাজনিত উচ্চচাপ বলয়। পক্ষান্তরে, 'খ' অঞ্চলের তাপমাত্রা মেরু অঞ্চলের মতো চরম শীতল নয়; এটি মূলত পৃথিবীর আবর্তনজনিত বল ও গতিবিদ্যার কারণে গঠিত।

    ৩. বায়ুর উৎস ও চলন: নিরক্ষীয় অঞ্চল ও মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ ঊর্ধ্বমুখী বায়ু শীতল হয়ে উপক্রান্তীয় অঞ্চলে ('খ') নেমে এসে পুঞ্জীভূত হয়। আর 'ক' অঞ্চলে তীব্র শৈত্যের কারণে বায়ুর ঘনত্ব বেড়ে নেমে আসে।

    ৪. বায়ুপ্রবাহের দিক: 'ক' উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী মেরু বায়ু মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। আর 'খ' অঞ্চল থেকে বায়ু একদিকে অয়ন বায়ু হিসেবে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে এবং অন্যদিকে পশ্চিমা বায়ু হিসেবে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

    অতএব, 'ক' এবং 'খ' উভয়ই উচ্চচাপ বলয় হলেও এদের ভৌগোলিক অবস্থান, সৃষ্টিতত্ত্ব (তাপজনিত বনাম গতিজনিত) এবং বায়ুর প্রবাহ বৈশিষ্ট্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন