গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী রেবেকা একজন ব্যাংকার। ইদানিং তিনি অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর শরীর দুর্বল লাগে এবং চেহারাটাও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, তার একমাত্র মেয়ে আনিকা প্রতিদিন বাস্কেটবল খেলার অনুশীলন করে। এতে তার শরীরে প্রচুর ঘাম হয় কিন্তু সে পানি খেতে চায় না। ফলে ইদানিং তার বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা হচ্ছে।
- ক)(1)
ক্যালসিফেরল কী?
- খ)(2)
ভিটামিন 'কে' -কে রক্তক্ষরণ নিবারক ভিটামিন বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আনিকা কী ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রেবেকার শারীরিক সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়গুলো কী কী? নিজের মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ক্যালসিফেরল হলো ভিটামিন-ডি এর রাসায়নিক নাম। এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, যা হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে।
- খ)
ভিটামিন 'কে' রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কেটে গেলে বা আঘাত লাগলে এর সাহায্যে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাত বন্ধ হয়। এই ভিটামিনের অভাব হলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয়। এজন্য ভিটামিন 'কে' কে রক্তক্ষরণ নিবারক ভিটামিন বলা হয়।
- গ)
আনিকা প্রতিদিন বাস্কেটবল খেলার ফলে প্রচুর ঘামে, কিন্তু পানি পান করে না। ঘামের সাথে দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, অথচ সে পানি পান করে ঘাটতি পূরণ করছে না। ফলে সে পানিশূন্যতা (Dehydration) এর সমস্যায় ভুগছে।
এতে দেহে পানির অভাবে মুখ ও গলা শুকিয়ে যায়, প্রচণ্ড তৃষ্ণা পায়, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা হয় এবং প্রস্রাব কম ও গাঢ় হয়। দীর্ঘ সময় চললে পেশিতে টান ধরতে পারে ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ঘ)
রেবেকার অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, দুর্বলতা ও ফ্যাকাশে চেহারা রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) এর লক্ষণ। দেহে আয়রন বা লৌহের অভাবে এটি হতে পারে। এ থেকে উত্তরণের উপায়গুলো হলো:
১. আয়রনসমৃদ্ধ খাদ্য: কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক, পালং শাক, ডাল, কচুর লতি ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখা।
২. ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার: লেবু, পেয়ারা, আমলকির মতো টক ফল আয়রন শোষণে সাহায্য করে, তাই এগুলো খাওয়া।
৩. ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি১২: রক্ত তৈরিতে সাহায্যকারী এসব উপাদানযুক্ত সুষম খাদ্য গ্রহণ।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ: রক্ত পরীক্ষা করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস: নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া ও সুষম খাদ্য গ্রহণ।
সুতরাং, সুষম ও আয়রনসমৃদ্ধ খাদ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শে রেবেকা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও