অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. করিম একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে গ্রামে ফিরে নিজ চেষ্টায় একটি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ভার তার হাতেই। ব্যবসায়িক দায়-দায়িত্ব নিজেই বহন করেন। অন্যদিকে মি. রহিমের প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্যা ২০ জন। তারা যৌথভাবে মূলধনের যোগান দেয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তবে যে কোনো একজন সদস্যের মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে ৭যায়।
- ক)(1)
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কাকে বলে?
- খ)(2)
সংগঠককে শিল্পের চালক বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রহিমের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের “সংগঠন?
- ঘ)(4)
সদস্য সংখ্যা, মূলধন সংগ্রহ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তিতে মি. করিম ও মি. রহিমের সংগঠনের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন অনুযায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে যে প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়, তাকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের অন্যান্য উপাদান যেমন— ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে একত্রিত করে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা ও তদারকি করেন সংগঠক। তিনিই ঝুঁকি গ্রহণ করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানকে সাফল্যের লক্ষ্যপানে পরিচালিত করেন। সংগঠকের সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া উৎপাদনের অন্যান্য উপাদান নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে; তাই সংগঠককে শিল্পের চালক বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রহিমের প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘অংশীদারি সংগঠন’।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন (যা বাংলাদেশে বলবৎ) অনুযায়ী, চুক্তির ভিত্তিতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন হতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. রহিমের প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্যা ২০ জন, তারা যৌথভাবে মূলধনের যোগান দেয়, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে এবং কোনো একজন সদস্যের মৃত্যুতে ব্যবসাটির বিলোপসাধন ঘটে। অংশীদারি ব্যবসায়ের এ সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এটি স্পষ্টতই একটি অংশীদারি সংগঠন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. করিমের প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘একমালিকানা ব্যবসায়’ এবং মি. রহিমের প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘অংশীদারি ব্যবসায়’। নিম্নে সদস্য সংখ্যা, মূলধন সংগ্রহ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তিতে এ দুটি সংগঠনের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সদস্য সংখ্যা:
একমালিকানা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মালিক মাত্র একজন থাকেন। মি. করিম নিজ চেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন এবং তিনিই এর একমাত্র মালিক। অন্যদিকে, সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ে সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন সদস্য হতে পারে। মি. রহিমের প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্যা ২০ জন।২. মূলধন সংগ্রহ:
একমালিকানা ব্যবসায়ে একক মালিককে নিজ সঞ্চয় বা ব্যক্তিগত ঋণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে মূলধন সরবরাহ করতে হয়। মি. করিম একাই সমস্ত মূলধনের যোগান দেন। অন্যদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ে সকল অংশীদার চুক্তির শর্তানুযায়ী যৌথভাবে মূলধনের যোগান দেয়। মি. রহিমের সংগঠনে ২০ জন সদস্য যৌথভাবে মূলধন সংগ্রহ করায় এর মূলধনের পরিমাণ একমালিকানার তুলনায় অনেক বেশি।৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ:
একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিককে কারও সাথে পরামর্শ করতে হয় না, ফলে মি. করিম যে কোনো ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে দ্রুত ও এককভাবে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। পক্ষান্তরে, অংশীদারি ব্যবসায়ে পারস্পরিক আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফলে মি. রহিমের প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধিক সতর্কতা থাকলেও সময় তুলনামূলক বেশি লাগে এবং কখনো কখনো মতবিরোধ দেখা দিতে পারে।অতএব, উল্লেখিত তিনটি ভিত্তির বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মি. করিম ও মি. রহিমের প্রতিষ্ঠান দুটি যথাক্রমে একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায় হওয়ায় এদের মধ্যে স্পষ্ট কাঠামোগত ও কার্যগত পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও