জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আঁখি খেলতে যাওয়ার সময় ঘাসের উপর একটি পতঙ্গকে লাফ দিতে লক্ষ্য করল। বাবার কাছ থেকে এ পতঙ্গ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাবা বললেন, "এর রেচন পদ্ধতি ভিন্ন প্রকৃতির। রেচনের বর্জ্য পদার্থ পরিপাকের সময় বর্জ্যরে সাথে নিষ্কাশিত হয়। আমাদের ক্ষেত্রে রক্ত 0₂ পরিবহন করলেও শ্বসনে এ প্রাণীটির রক্ত তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না। এর রয়েছে বিশেষ ধরনের শ্বসনতন্ত্র যেখানে O₂ পরিবহনের প্রয়োজনই পড়ে না।"
- ক)(1)
ওমাটিডিয়াম কী?
- খ)(2)
ট্রাকিয়ালতন্ত্র বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
রেচন সম্পর্কে আঁখির বাবার উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ লাইনটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ওমাটিডিয়াম হলো আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের (যেমন ঘাসফড়িং) পুঞ্জাক্ষীর গঠন ও কাজের একক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘাসফড়িং বা পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণীদের দেহে গ্যাসীয় আদান-প্রদানের জন্য শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়া নিয়ে গঠিত বিশেষ ধরনের বায়ু সংবহনতন্ত্রকে ট্রাকিয়ালতন্ত্র বলা হয়। এটি স্পাইরাকল (শ্বাসরন্ধ্র), ট্রাকিয়া, ট্রাকিওল এবং বায়ুথলি নিয়ে গঠিত। এর মাধ্যমে অক্সিজেন সরাসরি পরিবেশ থেকে দেহকোষে পৌঁছায় এবং রক্ত শ্বসনে কোনো ভূমিকা পালন করে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আঁখির বাবার উক্তিটি ঘাসফড়িংয়ের রেচন পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ঘাসফড়িংয়ের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো ম্যালপিজিয়ান নালিকা।
ম্যালপিজিয়ান নালিকাগুলো হিমোসিলের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এগুলো হিমোলিম্ফ থেকে ইউরেট দ্রবণ এবং অতিরিক্ত পানি পরিশোষণ করে। নালিকার লুমেনে ইউরেট দ্রবণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে অদ্রবণীয় ইউরিক অ্যাসিড দানায় পরিণত হয় এবং পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ পুনঃশোষিত হয়ে হিমোলিম্ফে ফিরে আসে। এরপর উৎপন্ন ইউরিক অ্যাসিড নালিকার গোড়ার মাধ্যমে মধ্যান্ত্র ও পশ্চাদান্ত্রের সংযোগস্থলে উন্মুক্ত হয়ে পরিপাকনালিতে প্রবেশ করে। সেখান থেকে তা মলের সাথে মিশে যায় এবং পায়ুপথ দিয়ে বহিষ্কৃত হয়। এভাবে রেচন বর্জ্য পরিপাকের বর্জ্যের সাথে নিষ্কাশিত হয়, যা আঁখির বাবার উক্তির সত্যতা প্রমাণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ লাইনটি হলো—"এর রয়েছে বিশেষ ধরনের শ্বসনতন্ত্র যেখানে O₂ পরিবহনের প্রয়োজনই পড়ে না।" নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:
উন্নত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (যেমন মানুষের) ক্ষেত্রে রক্তে উপস্থিত শ্বাসরঞ্জক (হিমোগ্লোবিন) ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে দেহের কোষসমূহে পরিবহন করে। কিন্তু ঘাসফড়িংয়ের রক্তে (হিমোলিম্ফ) কোনো শ্বাসরঞ্জক থাকে না, ফলে তাদের রক্ত অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহনে অক্ষম।
এর বিকল্প হিসেবে ঘাসফড়িংয়ে একটি সুগঠিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ 'ট্রাকিয়ালতন্ত্র' গড়ে উঠেছে। এ তন্ত্রের মাধ্যমে শ্বসন গ্যাস সরাসরি পরিবেশ ও দেহকোষের মধ্যে পরিবাহিত হয়। ঘাসফড়িংয়ের দেহের উভয় পাশে অবস্থিত ১০ জোড়া স্পাইরাকল বা শ্বাসরন্ধ্র দিয়ে বাতাস ট্রাকিয়ায় প্রবেশ করে। ট্রাকিয়া থেকে সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা হয়ে ট্রাকিওলে পৌঁছায়। ট্রাকিওলের শেষ প্রান্তগুলো কোষরসের সংস্পর্শে থাকে, যা ট্রাকিওল রস নামে পরিচিত। এই ট্রাকিওল রসের মাধ্যমে কোষ এবং ট্রাকিওলের মধ্যে সরাসরি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে।
যেহেতু ট্রাকিয়ালতন্ত্রের মাধ্যমেই কোষ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে O₂ গ্রহণ করতে পারে, তাই গ্যাস পরিবহনের জন্য রক্তের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সুতরাং, উদ্দীপকের উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও