ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. টেরেন্স একটি জেলার শাসক ছিলেন। তাঁর জেলাটি আশপাশের সকল জেলার তুলনায় বৃহৎ ছিল। ফলে শাসনকাজ পরিচালনার জন্য বেগ পেতে হতো। এক পর্যায়ে তিনি ঐ জেলাকে ভেঙে দুটি জেলায় রূপান্তর করেন। এতে এক পক্ষ খুশি হলেও অপর পক্ষ অখুশি হয়ে এর প্রতিবাদে আন্দোলন করতে থাকে। কয়েক বছর এভাবে চলার পর জেলা দুটিকে আবার একত্রিত করা হয়।
- ক)(1)
দ্বি-জাতি তত্ত্বের জনক কে?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাব কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. টেরেন্সের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার ফলাফল পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বি-জাতি তত্ত্বের জনক হলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তা 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত। এতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. টেরেন্সের প্রশাসনিক সুবিধার জন্য জেলা বিভক্তকরণ ও পরবর্তীতে বিরোধিতার মুখে তা একত্রিতকরণের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' এবং ১৯১১ সালের 'বঙ্গভঙ্গ রদ'-এর মিল রয়েছে।
তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তি দেখিয়ে সুবিশাল বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করেন। এই ঘটনায় পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় আনন্দিত হলেও কলকাতার উচ্চবর্ণের হিন্দু ও জাতীয়তাবাদী নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে চরম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, শাসক টেরেন্স জেলা বড় হওয়ায় শাসনকাজের সুবিধার জন্য তা ভেঙে দুটি জেলায় ভাগ করেন। এতে এক পক্ষ খুশি এবং অপর পক্ষ অখুশি হয়ে আন্দোলন শুরু করে এবং পরবর্তীতে জেলা দুটিকে আবার একত্রিত করা হয়, যা বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের ইতিহাসের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ ও এর পরবর্তী বঙ্গভঙ্গ রদের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফল বাংলার রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দেয়।
বঙ্গভঙ্গের ফলে নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী ঢাকায় সরকারি ভবন, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গড়ে ওঠে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে। মুসলমানরা সরকারি চাকরি ও ব্যবসায় নতুন সুযোগ লাভ করে এবং নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করে। অন্য দিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের তীব্র চাপে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লী দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে।
বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে মুসলমানদের মধ্যে চরম হতাশা ও ব্রিটিশদের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়। এটি হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের মধ্যে গভীর দূরত্ব ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করে, যা ভবিষ্যতে ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলিম স্বাতন্ত্র্যবোধকে আরো শক্তিশালী করে তোলে এবং পরিণামে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির পথ উন্মুক্ত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও