হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রদীপ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার এক বন্ধু তাকে দেখতে এসে এক পূজার আয়োজন করতে বলে। প্রদীপ বাজার থেকে বিভিন্ন উপকরণ যেমন- পেঁপে, নারিকেল, তরমুজ, কলা ও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য ক্রয় করেন। অপরদিকে দীনেশ বিবাহ করে প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। তাদের কোনো সন্তানাদি না থাকায় তার মামা সন্তান-সন্ততি লাভের আশায় শ্রাবণ মাসের সপ্তমী তিথিতে বিশেষ এক পূজার আয়োজন করতে বলে। তার মতে সে সকল ধরনের পূজার সামগ্রী সংগ্রহ করে এবং গ্রামের সবাইকে পূজার নিমন্ত্রণ দেয়।
- ক)(1)
কার্ত্তিক দেবের বাহন কী?
- খ)(2)
‘বোধন' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
প্রদীপ বাবুর পূজা পাঠ্যবইয়ের কোন দেবতার সাথে মিল রয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দীনেশ বাবুর আয়োজিত পূজাটির মাধ্যমে সন্তান লাভ করা কি সম্ভব? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কার্তিক দেবের বাহন ময়ূর।
- খ)
বোধন অর্থ জাগরণ। দুর্গাপূজা শুরু হয় মহালয়ার পর শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে। ষষ্ঠী তিথির সন্ধ্যাকালে দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করার যে আনুষ্ঠানিকতা হয়, তাকে বোধন বলে। এরপর অধিবাস ও আমন্ত্রণ অনুষ্ঠিত হয়। বোধনের মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার মূল পর্বগুলো শুরু হয়।
- গ)
প্রদীপ বাবুর পূজার সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের দেবী শীতলার মিল রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন রোগে ভোগা প্রদীপের জন্য স্বাস্থ্য ও রোগমুক্তির উদ্দেশ্যেই পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
দেবী শীতলার পরিচয়: শীতলা রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী। তাঁকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবীও বলা হয়। তিনি মহামারি প্রতিরোধ করেন এবং প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন। শীতলা লৌকিক দেবতার অন্তর্ভুক্ত, কারণ বেদ ও পুরাণে তাঁর উল্লেখ নেই, কিন্তু ভক্তরা তাঁর পূজা করেন। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন হই।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: প্রদীপ অসুস্থ হওয়ায় বন্ধুর পরামর্শে ফল ও মিষ্টিজাতীয় উপকরণ কিনে পূজার আয়োজন করেন। রোগমুক্তির জন্য এই পূজার উদ্দেশ্য দেবী শীতলার কাজের সঙ্গে মিলে যায়।
সুতরাং প্রদীপ বাবুর পূজাটি দেবী শীতলার পূজার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
দীনেশ বাবুর আয়োজিত পূজাটি দেবতা কার্তিকের পূজা। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী এই পূজার মাধ্যমে সন্তান লাভ সম্ভব—আমি এ মতের সপক্ষে।
পাঠ্যবইয়ের ধারণা: কার্তিক যুদ্ধের দেবতা ও দেবসেনাপতি। তিনি অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেন। পাঠ্যবইয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য দেবতা কার্তিকের পূজা করা হয়।
১. ধর্মীয় বিশ্বাস: দীনেশ বাবুর বিবাহের দশ বছর পরও সন্তান না থাকায় তাঁর মামা সন্তান লাভের আশায় বিশেষ পূজার পরামর্শ দেন। এই বিশ্বাস পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত কার্তিক পূজার উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে।
২. পূজার আয়োজন: দীনেশ সকল ধরনের পূজার সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন এবং গ্রামের সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছেন। শাস্ত্রমতে ভক্তিভরে যথাযথ উপকরণে পূজা করলে দেবতার কৃপা লাভ হয়।
৩. সামাজিক প্রভাব: সবাইকে নিমন্ত্রণ করায় পূজা সামাজিক মিলনের উপলক্ষ হয়। এতে সবার শুভকামনা ও আশীর্বাদ পাওয়া যায় এবং মানসিক শান্তি আসে।
৪. আদর্শ সন্তানের শিক্ষা: কার্তিকের আদর্শ থেকে বোঝা যায়, সন্তান যেন সাহসী, ন্যায়নিষ্ঠ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়; পূজার মাধ্যমে এই আদর্শই সামনে আসে।
তবে ভক্তি ও বিশ্বাসের পাশাপাশি প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও বাস্তবসম্মত।
সুতরাং, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ভক্তিভরে কার্তিক পূজা করলে দীনেশ বাবুর সন্তান লাভ সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও