যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

রোহান সাহেব তার দুই ছেলে অপু ও তপুকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যান। সেখানে হরিণ দেখে অপু বলে, “সকল হরিণ হয় সুন্দর” । সামনে এগিয়ে তপু হাতি দেখতে পেয়ে বলল, “বাহ! কী বিশাল প্রাণী।” রোহান সাহেব বলেন, হাতি হোক বা হরিণ হোক “সকল প্রাণী হয় উপকারী”।

  1. ক)

    যুক্তিবিদ্যায় শব্দ কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    শব্দ কখন পদে পরিণত হয়?

    (2)
  3. গ)

    রোহান সাহেবের উক্তিটি কোন ধরনের যুক্তিবাক্য? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তপু আর অপুর উক্তি কি একই ধরনের? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যায় শব্দ তিন প্রকার। যথা: পদযোগ্য শব্দ, সহ-পদযোগ্য শব্দ এবং পদ-অযোগ্য শব্দ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো শব্দ যখন নিজে থেকেই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা ব্যবহারের যোগ্যতা অর্জন করে, তখন তা পদে পরিণত হয়। সাধারণ শব্দ অর্থবহ হলেই চলে, কিন্তু পদে পরিণত হতে হলে তাকে একটি যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে এককভাবে ব্যবহৃত হতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রোহান সাহেবের উক্তিটি হলো “সকল প্রাণী হয় উপকারী”। এটি একটি সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য (বা ‘A’ যুক্তিবাক্য)।

    যে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে বিধেয় পদকে স্বীকার করা হয়, তাকে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য বলে। এর গঠন হলো: 'সকল + উদ্দেশ্য + হয় + বিধেয়'।

    রোহান সাহেবের উক্তিতে উদ্দেশ্য পদ হলো 'প্রাণী', যার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থের ওপর 'উপকারী' বিধেয় পদটিকে সদর্থকভাবে ('হয়' সংযোজক দ্বারা) আরোপ করা হয়েছে। সুতরাং, পরিমাণ ও গুণের যৌথ শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী এটি একটি সার্বিক সদর্থক ('A') যুক্তিবাক্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, তপু আর অপুর উক্তি একই ধরনের নয়। অপুর উক্তিটি একটি যুক্তিবাক্য, কিন্তু তপুর উক্তিটি কোনো যুক্তিবাক্য নয়, এটি সাধারণ ব্যাকরণিক বিস্ময়সূচক বাক্য।

    যুক্তিবিদ্যায় যেসব বাক্যে একটি উদ্দেশ্য, একটি বিধেয় এবং একটি সংযোজক (হয় বা নয়) থাকে এবং যা সত্য বা মিথ্যা হওয়ার দাবি রাখে, তাকে যুক্তিবাক্য বলে। অপুর উক্তি “সকল হরিণ হয় সুন্দর” হলো একটি আদর্শ সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য। এখানে উদ্দেশ্য পদ 'হরিণ', বিধেয় পদ 'সুন্দর' এবং সংযোজক হিসেবে বর্তমান কালের 'হয়' উপস্থিত রয়েছে।

    অন্যদিকে, তপুর উক্তি “বাহ! কী বিশাল প্রাণী।” মনের আবেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করে। এটি ব্যাকরণগতভাবে বিস্ময়সূচক বাক্য হলেও যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী যুক্তিবাক্য নয়। কারণ এতে উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজকের সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল কাঠামো নেই এবং এটি সত্য বা মিথ্যা যাচাইযোগ্য কোনো অবধারণ ব্যক্ত করে না। যুক্তিবিদ্যায় কেবল বর্ণনামূলক বা বিবৃতিমূলক বাক্যই যুক্তিবাক্যে রূপান্তরিত হতে পারে, বিস্ময়সূচক বাক্য নয়। অতএব, তপু ও অপুর উক্তি এক ধরনের নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন