জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রাকিব দীর্ঘদিন যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত, তার প্রতি ২-৩ দিন পরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। ইদানিং তার দেহে মারাত্মক রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
- ক)(1)
ভিরিয়ন কাকে বলে?
- খ)(2)
বাধ্যতামূলক পরজীবী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
রাকিবের শেষোক্ত সমস্যা সৃষ্টির জন্য জীবাণুটির জীবনচক্রের যে ধাপটি দায়ী, তা চিত্রের সাহায্যে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে যে রোগটির উল্লেখ আছে, তার সংক্রমন প্রতিহত করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সম্পূর্ণ ভাইরাস কণাকে ভিরিয়ন (Virion) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পরজীবী পোষকদেহের অনুপস্থিতিতে বংশবৃদ্ধি বা জীবনধারণ করতে পারে না এবং সজীব পোষক কোষের বাইরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকে, তাদের বাধ্যতামূলক পরজীবী (Obligate parasite) বলে। যেমন— ভাইরাস। ভাইরাস পোষক কোষের ভেতরে সক্রিয় হয়ে জৈবিক ক্রিয়া ও প্রজনন সম্পন্ন করে, কিন্তু পোষকদেহের বাইরে এটি জড় পদার্থের মতো আচরণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাকিবের শেষোক্ত সমস্যাটি হলো 'মারাত্মক রক্তশূন্যতা' (Anemia)। ম্যালেরিয়া পরজীবী প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium)-এর মানবদেহে সংঘটিত 'এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি' (Erythrocytic schizogony) ধাপটি লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংসের মাধ্যমে এই রক্তশূন্যতা সৃষ্টির জন্য দায়ী।
এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনির পর্যায়ক্রমিক ধাপসমূহ:
১. ট্রফোজয়েট (Trophozoite): মেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে গোল হয়ে পুষ্টি গ্রহণ করে বড় হয়।
২. সিগনেট রিং (Signet ring): কেন্দ্রে গহ্বর সৃষ্টি হয়ে নিউক্লিয়াস একপাশে সরে আংটির মতো রূপ নেয়।
৩. অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট (Amoeboid trophozoite): ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে এটি ক্ষণে ক্ষণে রূপ পরিবর্তন করে এবং হিমোজোয়েন কণা জমতে থাকে।
৪. সাইজন্ট (Schizont): নিউক্লিয়াস বারবার বিভাজিত হয়ে বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট হয়।
৫. রোজেট (Rosette): মেরোজয়েটগুলো গোলাপের পাপড়ির মতো চক্রাকারে সজ্জিত হয়।
৬. মেরোজয়েট ও হিমোগ্লোবিন বিনষ্টকরণ: আরবিসি বিদীর্ণ হয়ে হিমোজোয়েন ও বিষাক্ত পাইরোজেন রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে।[চিত্রের বিবরণ: এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্রের চিত্র— ট্রফোজয়েট → সিগনেট রিং → অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট → সাইজন্ট → রোজেট পর্যায় → আরবিসি বিদীর্ণ হয়ে মেরোজয়েট নির্গমন]।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি হলো ম্যালেরিয়া। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশকী এই রোগের জীবাণু বহন ও বিস্তার করে। ম্যালেরিয়া সংক্রমণ প্রতিহত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন:
১. মশকীর বংশবৃদ্ধি ধ্বংস ও নিয়ন্ত্রণ:
- ডোবা, নালা, ফুলের টব, টায়ার ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা।
- মশার প্রজননস্থলে কীটনাশক (যেমন— লার্ভিসাইড বা কেরোসিন) প্রয়োগ করে লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস করা।
- জৈবিক নিয়ন্ত্রণে ড্রেন বা পুকুরে লার্ভাখেকো মাছ (গাপ্পি, তেলাপিয়া) ছাড়া।
২. মশকীর দংশন থেকে আত্মরক্ষা:
- ঘুমানোর সময় নিয়মিত কীটনাশকযুক্ত মশারি (ITN/LLIN) ব্যবহার করা।
- ঘরবাড়ির জানালায় নেট ব্যবহার করা এবং মশারোধী কয়েল, অ্যারোসল বা রিপেলেন্ট লোশন ব্যবহার করা।
- সন্ধ্যায় বাইরে বের হলে শরীর ঢাকা পোশাক পরিধান করা।
৩. আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ও আইসোলেশন:
- দ্রুত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ (যেমন— আর্টেমিসিনিন ভিত্তিক কম্বিনেশন থেরাপি) দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
- আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই মশারির ভেতর রাখা, যাতে রোগীকে কোনো মশা কামড়ে অন্যের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে।
৪. জনসচেতনতা সৃষ্টি:
- ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতা তৈরি করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও